শিরোনাম: নিষিদ্ধ পোল্ট্রি লিটার সরবরাহের দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা       মণিরামপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও       স্বপ্ন দেখোর মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ        ডুমুরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক স্কুলশিক্ষক নিহত       মহেশপুরে ভারতীয় মদ ও ফেনসিডিলসহ ব্যবসায়ী আটক       পর্বতারোহী রেশমার দাফন নড়াইলে সম্পন্ন       মা-বাবাসহ মাশরাফির পরিবারের চার সদস্য করোনায় আক্রান্ত       বাঁকড়ায় ভারতীয় নাগরিকের আত্মহত্যা       করোনায় যশোরে আরও একজনের মৃত্যু       যশোরে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উদযাপন       
করোনায় পথে বসার উপক্রম যশোরের পুস্তক ব্যবসায়ীদের
এম. জিহাদ
Published : Wednesday, 8 July, 2020 at 1:23 AM
করোনায় পথে বসার উপক্রম যশোরের পুস্তক ব্যবসায়ীদের
করোনায় ব্যাপক লোকসানের মুখে যশোরের পুস্তক ব্যবসা। টানা চারমাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ ব্যবসা নেই বললে চলে। করোনার ভয়াল থাবায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন পুস্তক ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা।
যশোর জেলায় সর্বমোট দুশ’ ৬০টি বই বিক্রির দোকান রয়েছে। এরমধ্যে শহরে রয়েছে ৪৫টি। ছোটগুলো বাদে অন্য দোকানগুলোতে এক থেকে পাঁচজন কর্মচারী রয়েছে। প্রতিটি দোকানের ভাড়া দু’ থেকে পাঁচ হাজার। ব্যবসা না চললেও কর্মচারীদের আংশিক বেতন ও ভাড়া গুণতে গিয়ে ঋণের বোঝা ভারী করে ফেলেছেন মালিকরা। আর কর্মচারীরা অর্ধেক বা আংশিক বেতন নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন। এদের বাইরে যারা চাকরি হারিয়েছেন তারা অসহায় জীবনযাপন করছেন।
গত ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরই মূলত বই ব্যবসায় ভাটা পড়ে। এরপর এপ্রিলের শেষে লকডাউনের মুখে পড়ায় বন্ধ করে দিতে হয় দোকানগুলো। টানা দেড় মাস দোকানগুলো বন্ধ থাকায় অনেক কর্মচারী বেতন পাননি। মে মাসের শেষে দোকানগুলো খুললেও কোনো ক্রেতা না থাকায় বেচাকেনা স্থবির হয়ে পড়েছে। শিগগির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর বিপুল অঙ্কের লোকসান গুণতে হবে বলে ধারণা করছেন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি। এ মুহূর্তে দুঃসময়ের মুখোমুখি  দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচাদি মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে মালিকদের জন্যে। ছোট ছোট বই বিক্রেতারা একেবারে পথে বসে যাওয়ার অবস্থায় রয়েছেন।
অধিকাংশই কর্মচারী চার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান। এ টাকায় কোনো রকমে সংসার চলতো তাদের। কিন্তু এ স্বল্প বেতন যদি বন্ধ হয় কিংবা অর্ধেকে নেমে আসে তখন টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ে বলে জানান কিছু কর্মচারী। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের পুস্তক বিক্রেতাদের অনেকেই তাদের ব্যবসা গুটিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছেন।
হাসান বুক ডিপো ও জনতা লাইব্রেরির কর্মচারীরা বলেন, করোনার আগে যেখানে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বই বিক্রি হতো সেখানে বর্তমানে দেড় থেকে দু’লাখ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে না। আর ছোট দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে না বললেই চলে।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি যশোর শাখার কোষাধ্যক্ষ জসীম উদ্দীন বলেন, ‘সঞ্চিত অর্থ বা ঋণ নিয়ে কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছেন মালিকরা। করোনার সময় বই বিক্রি ১০ গুণ কমেছে। আবার অনেকের বেচাকেনা নেই। কোনো সহযোগিতা না পেলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়বে এ সেক্টর।’
সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জনতা লাইব্রেরির স্বত্ত্বাধিকারী জাকির উদ্দীন দোলন বলেন, ৬০ বছরের ব্যবসায় করোনা এসে প্রথম তাদের পুঁজি ভেঙে দিয়েছে। ইতোমধ্যে শহরের তিন-চারজন ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুস্তক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেবে। সমিতি থেকে ঋণ ও সাহায্য করেও কোনোভাবে টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না ব্যবসা।’ তিনি বলেন, সরকার এ সেক্টরে সহযোগিতা বা স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা না করলে করোনা পথে বসিয়ে দেবে ব্যবসায়ীদের।
এদিকে সাধারণ মানুষ আর্থিক সংকটে পড়ায় করোনা পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও বিক্রি হবে না সৃজনশীল বই। স্বভাবতই এ সেক্টর হুমকির মুখে পড়বে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের। অন্যান্য সেক্টরের মতো স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার জন্যে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যশোরের পুস্তক ব্যবসায়ীরা।  








« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft