শিরোনাম: রাজশাহী বিভাগে ৩১৪ জনের করোনা শনাক্ত       নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজ অটোচালকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার       রাজশাহীতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা       নড়াইলে চিরনিদ্রায় শায়িত পর্বতারোহী রেশমা       লালপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত       চীনের নজর এবার তাজাকিস্তানের দিকে       মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা বাড়তি শূল্ক আরোপ করবে কানাডা       নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা মাহাথিরের       গোপালগঞ্জে পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার       করোনা এড়াতে স্যানিটাইজ করবেন গাড়ির যেসব অংশ      
হংকং : অশান্ত জনপদ
হাসানুজ্জামান
Published : Thursday, 2 July, 2020 at 12:19 AM, Update: 02.07.2020 10:05:01 AM
হংকং : অশান্ত জনপদ‘হংকং নিরাপত্তা আইন’ কার্যকর হওয়ার পর আবারও এই জনপদ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।এই জনপদের মানুষের বক্তব্য এই আইনের মাধ্যমে তাদের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থ হবে। শি চিনফিং চীনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তাদের উপর দমনপীড়ন শুরু হয়েছে।‘ হংকং নিরাপত্তা আইন’  হংকংবাসীকে দমনপীড়নের জন্য করা হয়েছে। এই কালো আইনের বাতিলের দাবীতে হংকং এর কয়েক হাজার মানুষ গেল রবিবার শহরে মিছিল করে।এই মৌন মিছিলটি কাইলুন শহর থেকে মংকক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মিছিলটি শান্তিপূর্ণ হলেও চীনা সরকারের পুলিশ বাধাগ্রস্ত করেছে। মিছিলের উপরে লঙ্কার গুড়া ছিটিয়ে দিয়েছে। গ্রেফতার করেছে ৫৩ জনকে। গণতন্ত্রপন্ত্রিরা দাবী করেছে  তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে চীনা পুলিশ হামলা করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে শি চিনফিং এর চীনা সরকার হংকং এর উপর পূর্ণ নিয়ণÍ্রন নিয়ে আসতে চাইছে। অর্থনৈতিকদিক দিক দিয়ে শক্তিশালী এই রাষ্ট্রটি বর্তমানে বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিতি অর্জন করেছে। তারা একদিকে পরমাণু শক্তিধর অপরদিকে করোনা মোকাবেলায় নতুন দৃষ্ঠান্ত স্থাপনের মধ্যদিয়ে নিজেদের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করেছে। ভারতের লাদাখ-গালওয়ান সীমান্তের  যুদ্ধে চীন যথেষ্ঠ শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধে চীন একবার ভারতকে পর্যদস্থ করে ছেড়েছিল। সেই যুদ্ধে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ দখল করে নিয়েছে। জাতীসংঘের ৬ টি উপ-পরিষদের মধ্যে ৪টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছে চীন।
পালনদীর পূর্বদিকে অবস্থিত ২৬০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই হংকং। যার উত্তরে চীনের কুয়াংতুং প্রদেশ এবং পূর্ব ,পশ্চিম আর দক্ষিণে চীন সাগর অবস্থিত। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বর্তমানে হংকং অনেক শক্তিশালী।ব্যবসায়িক বন্দর হিসাবে হংকং এর পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। ২২১- ২০৬ খ্রিষ্টপূর্ব চীন সা¤্রাজ্যের সাথে অর্ন্তভুক্ত করা হয় চীনকে। প্রথমদিকে মৎস্য শিকার এবং লবণ উৎপাদনের অজ্ঞল হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে এই হংকং আর্ন্তজাতিক বন্দর কেন্দ্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশরা এই হংকং দখল নিয়ে শাসন করতে থাকে। ১৯৪১ সালের ২৩ ডিসেম্বর হংকং এর উপর জাপানিরা আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে ব্রিটিশরা পরাজয় বরণ করে এবং হংকং এর পেনিনসুলা হোটেলের তৃতীয়তলায় আত্মসর্ম্পণ করে।জাপানি গভর্ণর নিয়োগ দেওয়া হয় ইসোগাই রেনসুকে। জাপানিজদের শাসনের সময় নারী ধর্ষণ কমে আসে। বেসামরিক জনগণকে রেশনিং এর আওতায় নিয়ে আসা হয়।অপরদিকে অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক কারণে ১০ হাজার হংকংবাসীকে প্রহসনের বিচারের নামে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৯৪৫ সালে ব্রিটিশ এবং চীনারা একত্রিত হয়ে হংকং এর উপর আক্রমণ করে জাপানিজদের সরিয়ে দেয়। মুক্ত হংকং চীনাদের সম্মতিতে ব্রিটিশরা শাসন করতে থাকে। ১৯৫০ এরদিকে হংকং এ ব্যাপক পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটতে থাকে। হংকং এর ব্যবসায়িকরা বিশ্ববাজারে বোতাম, কৃত্রিম ফুল, ছাতা,কাপড়,পাদুকা, এনামেলওয়ার বিক্রির মধ্যদিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে থাকে। এ সময় হংকং এ বহুতলা ভবন র্নিমাণের মধ্যদিয়ে হংকং এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। ১৯৬৮ সালে হংকং এ নতুন একটি ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। এই ভাইরাসে ‘হংকং’ এর প্রায় শতকরা ১৫ ভাগ মানুষ আক্রান্ত হয়।
১৯৯৭ সালের ১ জুলাই ব্রিটিশ- চীনের মধ্যেকার চুক্তি অনুযায়ী হংকং চীনের দখলে আসে। ‘তুংফি ওয়া’ প্রধান নির্বাহী নির্বাচিত হয়। ২০০৯ সাল থেকে হংকং এ নতুন অট্রালিকা তৈরী হতে থাকে এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে হংকং।
১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে  চীনের সাথে অর্ন্তভুক্ত হওয়ার পর থেকে স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করে আসছে হংকং। হংকং এ রয়েছে নিজস্ব বিচার বিভাগ , আইনসভা ও নিরাপত্তা বাহিনী। শি চিনফিং চীনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই হংকং এর দিকে নজর পড়ে। হংকংবাসীরা গণতন্ত্রের জন্য যেখানে লড়াই করছেন সেখানে ‘ হংকং নিরাপত্তা আইন’ তাদের আন্দোলকে পিছন থেকে পেরেক ঢুকিয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রপন্থিরা দাবী করছেন- এই আইন এই অজ্ঞলের গণতন্তের জন্য মারাত্বক হুমকি স্বরুপ। চীনের নিপীড়ণ মূলক আইনের প্রতিবাদ করেছে  যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটিশ সরকার। প্রতিবাদ স্বরুপ যুক্তরাষ্ট্র হংকং এর কাছে প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য সরজ্ঞাম রপ্তানী বন্ধ করে দিয়েছে। চীনের বিরুদ্ধেও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
ভারত যখন কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন , গণতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে পুরোপুরি নিয়ণÍ্রণ নিয়ে নেয় সেই সময় চীন এর তীব্র প্রতিবাদ করে। পাকিস্থানসহ পৃথিবীর অনেকর্ াষ্ট্র  ভারতের এই আগ্রাসি মোনাভাবের প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু মায়ানমার তাদের দেশ থেকে মুসলমানদের তাড়িয়ে দেওয়ার সময় চীন  নিরব ভ’মিকা পালন করে। পরবর্তীতে চীন মায়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেয়। বিশ্বব্যাপী কোন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র নিজের স্বার্থের বাইরে যায় না, যেতে চায় না।  হংকং এর উপর সম্প্রতি চীনের আগ্রাসী মনোভাব এ কথারই প্রমাণ করে দেয়।  অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী  বিশ্বে পরমানু শক্তিধর চীন নিজের শক্তির জানান দিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে নানা অজুহাতে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অনেকের মত। ভারতের সাথে চীনের যুদ্ধের দামাবা এখনও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে ‘ হংকং নিরাপত্তা আইন’ নিয়ে জড়িয়ে পড়লো চীন। চীনের এই আগ্রাসী মনোভাব থেকে হংকং আদৌও মুক্তি পাবে কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকেই যায়।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও সদস্য, খেলাঘর কেন্দ্রিয় কমিটি।  মোবাঃ ০১৭১১-১০৮৭৩৬    




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft