gramerkagoj
বুধবার ● ২৪ জুলাই ২০২৪ ৮ শ্রাবণ ১৪৩১
gramerkagoj
কুইন্স হাসপাতালের কেবিন ছাড়ছেন না ফোঁড়া অপারেশন করা এক রোগী
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ জুলাই , ২০২৪, ০৯:৫৯:০০ পিএম , আপডেট : বুধবার, ১৭ জুলাই , ২০২৪, ০৭:৪৩:১৮ পিএম
কাগজ সংবাদ:
GK_2024-07-09_668d5ebea9338.jpg

এক রোগীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে যশোরের কুইন্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একটানা ৫৩ দিন পার হলেও ওই রোগী বাড়ি ফিরতে চাচ্ছেন না। স্বজনরাও তাদের রোগীকে বাড়ি নিয়ে যেতে নারাজ। এ কারণে বাধ্য হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিতে হয়েছে যশোর সিভিল সার্জন অফিসে। অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেলসহ একটি টিম কুইন্স হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সামান্য একটি ফোঁড়ার অপারেশন করা হয়েছে ওই রোগীর, যাতে মাত্র তিনদিন ভর্তি থাকা লাগে। ওই রোগীর ছাড়পত্র দেয়া হলেও হাসপাতাল ছাড়ছে না। একাধিকবার তাগাদা দিলেও রোগী ও তার স্বজনরা একটি কেবিন দখল করে আছে। এমনকি পরিশোধও করেছেনা হাসপাতালের বিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, রোগী এখন সুস্থ। তবে, রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, তাদের রোগী অপচিকিৎসার শিকার হয়েছে। এখনো সুস্থ হয়নি। সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তারা হাসপাতাল ছাড়বেন না।
কুইন্স হাসপাতাল সূত্র বলছে, চলতি বছরের ১৭ মে শহরের বকচর এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন পেটে একটি ফোঁড়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন অধ্যাপক ডাক্তার সৈয়দ মাহবুবুল আলম তার অপারেশন করেন। এরপর থেকে রোগী হাসপাতালের ৭০৩ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাকে ২২ মে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা নানা তালবাহানায় হাসপাতালে থেকে গেছেন। এরপর একে একে ৫৩ দিন পার হলেও তারা হাসপাতাল ছাড়তে ও বিল পরিশোধ করতে নারাজ।
রোগীর মেয়ে রাবেয়া বসরী বলেন, তার মা সুস্থ হয়নি। হাসপাতাল অন্য ডাক্তারের দিয়ে লেখা ছাড়পত্র দিচ্ছে। যে ডাক্তার তার মাায়ের অপারেশন করেছেন ওই ডাক্তারের লেখা ছাড়পত্র দিতে চাচ্ছেন না। কারণ তার মায়ের অপচিকিৎসা করা হয়েছে। তার মা এখনো সুস্থ হয়নি। মায়ের চিকিৎসার পরিবর্তে হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। রোগীর ফাইলপত্র গায়েব করে টাকা দিয়ে মীমাংসা করতে চাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে কুইন্স হাসপাতালের এডমিন আইটি হাসান ইমাম শিমুল জানান, মিথ্যাচার করছে রোগীর স্বজনরা। ফাইল গায়েব করা বা টাকা দিয়ে মীমাংসার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। রোগীর স্বজনদের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে সাতজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ওই রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তারপর রোগীরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। নিজেরা ফাইল থেকে রোগীর বিভিন্ন তথ্য গায়েব করেছে। এটি সামান্য একটি ফোঁড়ার অপারেশন। কোনো অপচিকিৎসার সুযোগ নেই। ছাড়পত্র দেয়ার পরও রোগীর স্বজনরা কেনো বাড়ি যাচ্ছে না বিষয়টি রহস্যজনক।
ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, খবর শুনে পরিদর্শনে যান। দু’পক্ষের কথা শুনেছেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেই রিপোর্ট হাতে পেলে বলা সম্ভব হবে রোগী বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাদের কথা সত্যি।

আরও খবর

🔝