gramerkagoj
সোমবার ● ২৭ মে ২০২৪ ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
gramerkagoj
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় আনারস!
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মে , ২০২৪, ১১:৩৮:০০ এ এম , আপডেট : রবিবার, ২৬ মে , ২০২৪, ১২:১৮:৫৯ পিএম
কাগজ ডেস্ক:
GK_2024-05-08_663b01c72cb66.jpg

অনেকের কাছে আনারস প্রিয় না হলেও জ্বর হলে কিন্তু আমরা আনারস খেয়ে থাকি। কেবল জ্বর নয় অনেকে রোগ প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রণে আনারস খেতে পারেন।
আনারস জ্বরের ও জন্ডিস রোগের জন্য বেশ উপকারি। সর্দি-কাশি বা ভাইরাল জ্বরের ঘরোয়া চিকিৎসায় খেতে পারেন আনারস। এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালরি, যা আমাদের শক্তি জোগায়। প্রোটিন খাবার এ ফলটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, ত্বককে কুঁচকে যাওয়া থেকে বাঁচায়। আনারস টাটকা খাওয়াই ভালো। তবে ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে এই আনারস।
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, আনারস এবং এর যৌগগুলো ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। শরীরের অনেক সমস্যা দূর করতে সুস্বাদু রসালো ফল আনারস সিদ্ধহস্ত। আনারস হচ্ছে ঔষধিগুণসম্পন্ন ফল। যা একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে।
আনারসে রয়েছে রোগ-প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আনারসের জুড়ি মেলা ভার। আনারস শরীরে পুষ্টির অভাব দূর করে। আনারসে ক্যালোরির পরিমাণও নেই বললেই চলে। যারা ওজন কমাতে চাইছেন, প্রতিদিনের পাতে রাখতে পারেন আনারস। ওজন থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
প্রতি ১০০ গ্রামে আনারসে পাওয়া যায় ৫০ কিলোক্যালরি শক্তি। এতে ভিটামিন-এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ১০০ গ্রাম আনারসে ০.৬ ভাগ প্রোটিন, ০.১২ গ্রাম সহজপাচ্য ফ্যাট, ০.৫ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১৩.১২ গ্রাম শর্করা, ০.১১ গ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৪ মি. গ্রাম ভিটামিন-২, ভিটামিন- সি ৪৭.৮ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ০.০২ গ্রাম, আঁশ ১.৪ গ্রাম এবং ১.২ মিলি গ্রাম লৌহ রয়েছে।
প্রতিদিন আনারস খেলে আপনার শরীরের কেমন প্রভাব পড়ে, দেখে নিন। আপনার অজান্তেই এই ফল বহু রোগ নিরাময় করে।
ক্যানসার প্রতিরোধী
নিয়মিত আনারস খেলে ক্যানসারের মতো রোগকেও প্রতিরোধ করা সম্ভব। আনারসে থাকা বিভিন্ন উপাদান ক্যানসারকে দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়তে দেয় না। আনারস ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে জানা গেছে৷ গবেষণায় দেখা গেছে, আনারস এবং এর যৌগগুলো ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এই যৌগগুলোর মধ্যে একটি হলো ব্রোমেলাইন নামক হজম এনজাইমের একটি দল। টেস্ট-টিউব সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্রোমেলাইন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সহায়তা করতে পারে। দুটি টেস্ট-টিউব সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্রোমেলাইন স্তন ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধি ঠেকাতে এবং ধ্বংস করতে সক্ষম। অন্যান্য টেস্ট-টিউব সমীক্ষায় দেখা যায়, ব্রোমেলাইন ত্বক, পিত্ত নালী, গ্যাস্ট্রিক সিস্টেম এবং কোলনসহ অন্যান্য অঞ্চলের ক্যান্সারও দমন করে। টেস্ট-টিউব এবং প্রাণী গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রোমেলাইন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি দমন করতে এবং ক্যান্সার কোষগুলো নির্মূল করতে সাদা রক্ত কোষকে আরও কার্যকর করে। আনারস শরীরের ইমিউন কোষগুলোকেও সক্রিয় করে তোলে৷ দেহের কোষের ওপর ফ্রি-রেডিকেলের বিরূপ প্রভাবে ক্যানসার রোগ দেখা দিতে পারে। দেশি আনারসে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-সি যা দেহকে ফ্রি-রেডিকেল থেকে আমাদের দেহকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনারস বেশ কার্যকরি। আপনার ডায়াবেটিস আছে বলে আনারস খাওয়া বন্ধ করবেন না ৷ এটি নিয়ন্ত্রণের অনেক ভালো উপায় রয়েছে । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালের খাবারে পরিবর্তন আনলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায় । ওষুধ ও শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায় ।
সর্দি-কাশি-জ্বর থেকে রক্ষা করে
বছরের মধ্যে বেশির ভাগ দিনই সর্দি-কাশি, জ্বরে ভোগেন অনেকে। আনারসের রস খেয়ে দেখুন। আনারসে রয়েছে ভিটামিন সি, যা ঠান্ডা লাগার ধাত কমায়! ফলে একটুতেই সর্দি-কাশি-জ্বর বাঁধিয়ে বসার ভাবনা থাকে না!
রক্ত জমাটে বাধা দেয়
দেহে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এই ফল। ফলে শিরা-ধমনির (রক্তবাহী নালি) দেয়ালে রক্ত না জমার জন্য সারা শরীরে সঠিকভাবে রক্ত যেতে পারে। হৃৎপিণ্ড আমাদের শরীরে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে। আনারস রক্ত পরিষ্কার করে হৃৎপিণ্ডকে কাজ করতে সাহায্য করে।
সংক্রমণ দমন করে
আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন এনজাইম, যা সংক্রমণ দমন করে৷নিয়মিত আনারস খেলে খেলাধুলা করতে গিয়ে পাওয়া আঘাত বা ক্ষত সহজেই সেরে যায়৷
ওজন কমায়
শরীরের ওজন কমাতে হাতের কাছে রয়েছে আনারস! এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। নিয়মিত এই ফলের রস খান, এতে ক্যালোরির পরিমাণও খুব সামান্য। ফ্যাট না থাকায় এই রস তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে সহায়তা করে।
চোখের যত্নে
আনারসে থাকা বিটা ক্যারোটিন চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে আমাদের রক্ষা করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত আনারস খেলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
হজমশক্তি বাড়ায়
আনারস আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস দেহের পুষ্টির অভাব যেমন পূরণ করে, তেমনি কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে৷
হাড়ের সুস্থতায়
আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাংগানিজ। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাংগানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পরিমিত পরিমাণ আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যে কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কৃমিনাশক হিসেবে
কৃমিনাশক হিসেবে আনারসের জুস ভালো কাজ করে। নিয়মিত আনারসের জুস খেলে কৃমির সমস্যা দূর করা সম্ভব।
প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করে
এতে থাকা ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন, জিঙ্ক, কপার, ফোলেট পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায়
আনারসের ক্যালসিয়াম দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধান করতে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে।
ত্বকের বয়স রোখে
আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা এএইচএ থাকায় আনারস কোলাজেন উৎপাদন করতে সক্ষম। তাই আনারসের রস নিয়মিত মুখে মাখলে ত্বকের বলিরেখা সরে, বয়সের চাপ পড়ে না। আনারসের রস ত্বকে মিনিট পাঁচেক রাখার পর ধুয়ে নিন।
চুলের যত্নে
চুলের যত্নে ভিটামিন সি অপরিহার্য, এ কথা অনেকেই জানেন। এখন সমস্যা হল অনেকেরই লেবু সহ্য হয় না। কিন্তু লেবু ছাড়াও ভিটামিন সি-র প্রাকৃতিক উৎস হল আনারস। মসৃণ এবং জেল্লাদার চুল পেতে, চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে এবং মাথার ত্বকের যে কোনও সংক্রমণ রুখতে আনারস একাই একশো।
সার্জারির পর দ্রুত সুস্থতা মেলে
সার্জারি বা কঠোর ব্যায়াম করার পর শরীরের ব্যথা থেকে সেরে উঠতে কাজ করে আনারস। এতে থাকা ব্রোমেলিনের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রোমেলাইন প্রদাহ, ফোলাভাব, ক্ষত এবং ব্যথা হ্রাস করতে পারে, যা প্রায়শই সার্জারির পরে ঘটে। এ ছাড়াও কঠোর অনুশীলনের ফলে শরীরের প্রদাহ হলে দ্রুত সারিয়ে তুলতে পারে আনারস। এতে থাকা মেলিনের মতো প্রোটিসগুলো ক্ষতিগ্রস্থ পেশীর প্রদাহ হ্রাস করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আনারসে আছে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস এবং অন্যান্য সহায়ক যৌগগুলো শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ এবং রোগের সঙ্গে লড়াই করতে পারে। এ ছাড়াও হজমশক্তি বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং যেকোনো সার্জারি থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।
আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কমাবে
বাতের সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। অনেক ধরণের আর্থ্রাইটিস আছে, তবে বেশিরভাগই জয়েন্ট প্রদাহে ভুগে থাকেন। যেহেতু আনারসে ব্রোমেলিন থাকে। আর এতে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে। তাই সাধারণত ধারণা করা হয়, আর্থ্রাইটিস রোগীদের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে আনারস।
সাবধানতা
আনারসের কারণে নারীদের গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গর্ভাবস্থায় থাকলে নারীদের আনারস খেতে বারণ করা হয়। তাছাড়া গর্ভাবস্থার পরে চাইলে আনারস খেতে পারেন কিন্তু শরীরের অবস্থা বুঝে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। অনেকেই কাঁচা আনারস ব্যবহার করে থাকেন জুস বানানোর জন্য কিন্তু এটি দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং খুব বিষাক্ত। এবং মাঝে মাঝে কাঁচা আনারস খাওয়ার কারণে বমির প্রবণতা দেখা দেয়।

আরও খবর

🔝