gramerkagoj
বুধবার ● ১৭ এপ্রিল ২০২৪ ৪ বৈশাখ ১৪৩১
gramerkagoj
মা জেনারেল হাসপাতাল খুললেই জেল-জরিমানা
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর , ২০২২, ০১:০০:৩৯ এ এম
আশিকুর রহমান শিমুল : :
1663009275.jpg
স্বাস্থ্য বিভাগের কারণ দর্শানোর জবাব দিতে পারেননি মা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস।  ১১ সেপ্টেম্বর শোকজের উত্তর দিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আসেন তিনি। ওইসময় তিনি সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসের সামনে মুচলেখা দেন। তাতে উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন না। আগামী এক মাসের মধ্যে কাগজপত্র করে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন। এদিকে, গ্রামের কাগজে ওই প্রতিষ্ঠানের অপচিকিৎসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর মুখ খুলতে শুরু করেছে ভুক্তভোগীরা। ৮ সেপ্টেম্বর মা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে লেবুতলার শ্যামলী খাতুন ও খাজুরার সবিরন বেগমের লেবার পেইন উঠানোর জন্য ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপর ওই দু’রোগীর লেবার পেইন উঠলে বিষয়টি হাসপাতালের সেবিকাদের জানান রোগীর স্বজনরা। তখন হাসপাতাল থেকে জানানো হয় এখনো পর্যন্ত ডাক্তার আসেননি। অপেক্ষা করতে হবে। রাতে রোগীর লেবার পেইন উঠলে ডাক্তার না পেয়ে স্বজনরা তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের ছাড়তে অস্বীকার করে বিল পরিশোধ করতে বলে। এতে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্বজনরা জোর করে ওই হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে এসে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, এ প্রতিষ্ঠানে কোনো রোগীকে সিজারিয়ান রোগী ভর্তি করতে গেলে জানানো হয় ছয় হাজার টাকার মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে। ভর্তির পর বিভিন্ন তালবাহানায় হাতিয়ে নেয়া হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। রোগী ভর্তির পর এ প্রতিষ্ঠান থেকে যদি রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাওয়া হয় তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবিকৃত টাকা না দেয়া পর্যন্ত রোগীকে ছাড়া হয়না। সূত্র জানায়, গড়ে প্রতিদিন মা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চার থেকে পাঁচটি অপারেশন করা হয়। অথচ এ প্রতিষ্ঠানে কোনো অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার নেই। এক সিনিয়র সেবিকা রোগীদের অজ্ঞানের ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। রোগীদের যে প্যাথলজি রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে তাতে কোনো কনসালটেন্টের স্বাক্ষর থাকেনা। শুধুমাত্র ল্যাব টেকনিশিয়ানের স্বাক্ষরে  দেয়া হচ্ছে প্যাথলজি রিপোর্ট। অথচ প্যাথলজি রিপোর্টে কমপক্ষে একজন মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর থাকতে হবে। ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেল জানান, গ্রামের কাগজের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে ডাকা হয়। প্রতিষ্ঠান মালিক আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন ও প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন মর্মে মুচলেখা দিয়েছেন। ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকার ক্লিনিক্যাল সেবা প্রদান করলে ভ্রম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মালিকদের জরিমানা ও কারাদন্ড দেয়া হবে। 

আরও খবর

🔝