gramerkagoj
রবিবার ● ১৪ এপ্রিল ২০২৪ ৩০ চৈত্র ১৪৩০
gramerkagoj
যশোরের বাজারে দেশি মাছের সংকট

❒ এখনই পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যাবে এক সময়

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর , ২০২২, ০১:০২:০৯ এ এম
মিনা বিশ্বাস:
1662922995.jpg
দেশীয় প্রজাতির মাছের সংকট দেখা দিয়েছে যশোরের বাজারে। হারিয়ে যেতে শুরু করেছে এসব মাছ। বিল দখল, বিলের জমিতে স্থাপনা নির্মাণ, ঘেরে মাছ চাষ বৃদ্ধি পাওয়া ও বৃষ্টি কমে যাওয়ার কারণে এই সংকট বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এখনই ব্যবস্থা না নিলে অনেক মাছই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন তারা।    ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ কথাটি এখন কেবলই প্রবাদ। বাস্তবতার সাথে এই প্রবাদের কোনো মিল নেই। বাজারে দেশীয় প্রজাতির মাছের সরবরাহ কমতে শুরু করেছে বেশ কিছুদিন। বিলুপ্ত হতে চলেছে এসব মাছ। এখন সরচরাচর দেখা মেলে না রয়না, খয়রা, গুতে, খলসে, পুঁটি, চিতল, বোয়াল, টাকি, কৈসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ। কিছু মাছের দেখা মিললেও বাজারে তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধ থাকলেও এসব মাছ কেনার সাধ্য নেই নিম্ন ও মধ্যবিত্তের। খাল বিল দখল করে স্থাপনা তৈরি, ঘেরে মাছ চাষের প্রবণতা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বিভিন্ন জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে বলছেন মাছ বিক্রেতারা। অন্যদিকে চাষকৃত মাছের দামও দিন দিন বেড়ে চলায় মাছ এখন বিলাসী খাবারে পরিণত হয়েছে। তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, সিলভার কার্প, গ্রাসকার্প জাতীয় মাছ দিন দিন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত এক মাসে চাষকৃত এসব মাছ কেজিতে ৬০-৮০ টাকা করে বেড়েছে। রোববার যশোরের বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১২০-১৬০, সিলভার কার্প ১৬০, গ্রাস কার্প ২৫০, মিনার কার্প ১৩০-১৪০, পাঙ্গাস ১৮০, নলা ১৬০, বাটা ১৩০-১৫০, রুই ও কাতলা ২২০, বোয়াল ২২০, কালবাউশ ৩০০, দেশি কাঁকলে ৫০০, জিয়েল ৩২০-৫২০, কুচো চিংড়ি ৪৮০, মাঝারি জাতের চিংড়ি ৫০০-৮০০, গলদা ও বাগদা চিংড়ি ৭০০ থেকে ১ হাজার, মাগুর ও বেলে মাছ ৬০০, টাকি ৪০০, পাবদা ৩০০, সরপুঁটি ৩০০-৪০০ এবং বাইন ও টেংরা ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। এক মাস আগেও এসকল মাছ কেজিতে ৬০-৮০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। শরিফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, ছেলেবেলায় আমরা খাল বিলে বিভিন্ন ধরনের মাছ নিজেরাই ধরেছি। সেসব জায়গায় এখন স্থাপনা তৈরি হয়েছে। পুকুর ভরাট করা, খাল বিল দখলের কারণে এখন বাজারে আর দেশি মাছের দেখা মেলে না। যাও দু’ একটি চোখে পড়ে তা অত্যধিক দামের কারণে কিনতে পারি না। আরেক ক্রেতা সালমা জাহান বলেন, খাল বিল পুকুর ভরাট ও দখল বন্ধ করতে না পারলে দেশীয় মাছ চিরতরে হারিয়ে যাবে।  বড় বাজারের মাছ বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, শহর ও গ্রামে যে হারে খাল বিলের সংখ্যা কমছে। তাতে দেশীয় প্রজাতির মাছতো কমবেই। বিক্রেতা আকবর হোসেন বলেন, খাল বিলের জায়গায় বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। এখন বৃষ্টিও আগের মতো হয় না। খাল, বিল, পুকুর শুকিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে দেশীয় মাছ কমে গেছে। এ বিষয়ে যশোর জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষার্থে আমরা নানা ধরনের পদক্ষেপ নিই। নদী ও বাওড়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়। বাওড়ের পাশে পুকুর তৈরি করে সেখানে আমরা রেনু পোনা ছাড়ি। প্রতি বছরই দেশীয় মাছ রক্ষার্থে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়। বর্তমানে খাল বিল আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। খাল, বিল দখল হচ্ছে। সেখানে ঘের করা হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে স্থাপনা। ফলে মাছ কমে যাচ্ছে।

আরও খবর

🔝