gramerkagoj
বৃহস্পতিবার ● ২০ জুন ২০২৪ ৫ আষাঢ় ১৪৩১
gramerkagoj

❒ বিশ্বকাপ ক্রিকেট

ভারতকে কাঁদিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বজয়
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ নভেম্বর , ২০২৩, ১০:২০:০০ পিএম , আপডেট : বুধবার, ১৯ জুন , ২০২৪, ০৩:০২:৩৫ পিএম
ক্রীড়া ডেস্ক:
GK_2023-11-19_655a3f7d2bbd8.jpg

ওয়ানডে ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও টুর্নামেন্টের অপ্রতিরোধ্য স্বাগতিক ভারত। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করেছে ২৪০ রান। জয়ের জন্য ২৪১ রান সংগ্রহের পথে বিপর্যয়ে পড়ে অজিরা। বাঁহাতি ওপেনার ট্রাভিস হেডের অনবদ্য সেঞ্চুরি ও মারনাস লাবুশেনের ফিফটিতে ৪২ বল হাতে রেখে ভারতকে কাঁদিয়ে অজিরা করেছে বিশ্বজয়। এটি তাদের ষষ্ঠ শিরোপা।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ইনিংসে জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ শামির বোলিং তোপে ৪৭ রানে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে স্রোতের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান ওপেনার ট্রাভিস হেড। বাঁহাতি ওপেনারের অনবদ্য সেঞ্চুরি ও মারনাস লাবুশেনের ফিফটিতে ৪২ বল হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় প্যাট কামিন্সের দল।
হাফ সেঞ্চুরির পর ভারতের বোলারদের উপর চড়াও হতে থাকেন হেড। দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরিও তুলে নিয়েছেন তিনি। ৯৫ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন হেড। দলকে তিন রান দুরে রেখে সিরাজের বলে আউট হওয়ার আগে ১২০ বলে ১৫ চার ছয়টি ছক্কায় ১৩৭ রান করেন এই অজি বাঁহাতি ব্যাটার।
নিজের প্রথম ও ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওয়ার্নারকে সাজঘরে ফেরান শামি। ডানহাতি এই পেসারের অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরের বল খেলতে গিয়ে স্লিপে থাকা কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাত রান করা ওয়ার্নার। চার-ছক্কা মেরে ভালো শুরুর আভাস দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি মিচেল মার্শও। বুমরাহর অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে থাকা লোকেশ রাহুলের গ্লাভসে ক্যাচ দেন তিনে নামা এই ব্যাটার। মার্শের ব্যাট থেকে এসেছে ১৫ রান। চারে নেমে থিতু হতে পারেননি স্টিভ স্মিথও।
বুমরাহর অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। বলের লাইন মিস হওয়ায় তা সরাসরি আঘাত হানে স্মিথের প্যাডে। আবেদন করতেই স্মিথকে আউট দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেওয়ার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছেন আউট মেনেই। তবে রিভিউ নিলে বেঁচে যেতেন চারে নামা এই ব্যাটার। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বলের ইম্প্যাক্ট ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে।
এর আগে ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালোই করেছিলেন রোহিত শর্মা। তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি শুভমান গিল। মিচেল স্টার্কের শর্ট অব লেন্থ ডেলিভারিতে সামনের পায়ের উপর ভর করে পুল করতে যেয়ে অ্যাডাম জাম্পার হাতে ক্যাচ দেন তিনি। গিলের ব্যাট থেকে এসেছে চার রান। গিল ফিরে গেলেও রোহিত শার্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সঙ্গে কোহলির হ্যাট্রিক বাউন্ডারিতে সপ্তম ওভারেই পঞ্চাশ পূর্ণ করে ভারত। ইনিংসের অষ্টম ওভারে এসে প্রথমবার আক্রমণে স্পিনার হিসেবে ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে আসেন প্যাট কামিন্স।
প্রথম ওভারে সাফল্য না পেলেও দ্বিতীয় ওভারে উইকেট এনে দেন ম্যাক্সওয়েল। ডানহাতি এই অফ স্পিনারের পরের ওভারে টানা দুই বলে ছক্কা এবং চার মারেন রোহিত। পরের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে আবারও উড়িয়ে মারতে গিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক। তবে ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক না হওয়ায় ফিরে যেতে হয় ক্যাচ আউট হয়ে। রোহিতের ব্যাট থেকে এসেছে ৩১ বলে ৪৭ রান।
চার নম্বরে নেমে দ্রুতই ফেরেন চার রান করা শ্রেয়াস আইয়ার। মাত্র পাঁচ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারানোর পর থেমে যায় তাদের রান তোলার গতি। এরপর সাবধানী ব্যাটিংয়ে ভারতকে নিতে থাকেন রাহুল এবং কোহলি। বাউন্ডারি না পেলেও নিয়মিত সিঙ্গেল নিতে থাকেন তারা দু’জন। ৫৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন কোহলি। এদিকে ৯৭ বল পর বাউন্ডারির দেখা পেয়েছে ভারত। হাফ সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি কোহলি। ৬৩ বলে ৫৪ রান করা কোহলিকে বোল্ড করেন কামিন্স।
এরপর মোহাম্মদ শামিকেও আউট করেন স্টার্ক। খানিক বাদে অ্যাডাম জাম্পার শিকার হয়ে জসপ্রিত বুমরাহ এলবিডাবলু হলে ভারতের ইনিংস আর বেশিদুর এগোতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক নেন তিনটি উইকেট। দু’টি করে উইকেট নেন জশ হ্যাজলউড ও প্যাট কামিন্স। একটি করে উইকেট শিকার করেন অ্যাডাম জাম্পা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

 

 

আরও খবর

🔝