gramerkagoj
বৃহস্পতিবার ● ২০ জুন ২০২৪ ৫ আষাঢ় ১৪৩১
gramerkagoj

❒ রপ্তানি হচ্ছে চীনে, তৈরি হচ্ছে কার্বন পেপার, প্রিন্টারের কালিসহ মূল্যবান পণ্য

পাটকাঠির ছাই থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়

❒ সম্ভাবনার বাংলাদেশ

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ মে , ২০২৩, ১১:৪৩:০০ এ এম , আপডেট : বুধবার, ১৯ জুন , ২০২৪, ১২:৫৯:২৮ পিএম
এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর::
GK_2023-10-05_651db2a0caf75.jpeg
পাটকাঠি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ছাই। এই ছাইয়ের নাম চারকোল পাউডার। যা দিয়ে তৈরি হয় কার্বন পেপার, ফটোকপিয়ার এবং কম্পিউটার প্রিন্টারের কালি। মূল্যবান এসব পণ্য তৈরির অন্যতম কাচামাল পাটকাঠি। এই পাটকাঠি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই বা চারকোল পাউডার রপ্তানি হচ্ছে চীনে। যা থেকে আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলাদেশে সম্ভাবনার নতুন খাত হিসেবে ইতোমধ্যেই যুক্ত হয়েছে পাটকাঠির ছাই বা চারকোল পাউডার। মাগুরার মহম্মদপুর থেকে পাটকাঠির ছাই রপ্তানী হচ্ছে চীন। আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। একই সাথে কর্মসংস্থানও হয়েছে অনেক মানুষের।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরে মধুমতি নদীর তীরে রুইজানী গ্রামে ২০১৬ সালে গড়ে ওঠে ‘ইমপিগনো প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি ছাই বা চারকোল পাউডার উৎপাদন কারখানা। এ কারখানাটিতে কার্বন উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হাজার হাজার মণ পাটকাঠি মজুদ রয়েছে। বছরের ৬ মাস কারখানাটি উৎপাদনে থাকে। স্থানীয় ব্যাপারি ও কৃষকদের মাধ্যমে প্রতিমণ পাটকাঠি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে ক্রয় করা হয়। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাটকাঠি পোড়ানোর জন্য এই কারখানাটিতে ১৬টি চুল্লি রয়েছে। প্রতিটি চুল্লিতে একবারে ৭৫ থেকে একশ’ মণ পাটকাঠি পোড়ানো যায়। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ মণ পাটকাঠি পোড়ানো হয়। প্রতিমাসে ১০ হাজার ৫শ’ মণ থেকে ১২ হাজার মণ পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই বা চারকোল পাউডার উৎপাদন করা হয়। ওই হিসেব অনুযায়ী ৬ মাসে (মৌসুমে) গড়ে ৬৩ হাজার মণ থেকে ৭২ হাজার মণ পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই বা চারকোল পাউডার তৈরি করা হয়। 
সূত্র জানায়, পাটকাঠি পোড়ানোর পর টানা ৫দিন চুল্লি বন্ধ রাখা হয়। ষষ্ঠদিন চুল্লি খুলে পোড়া পাটকাঠি জাতা মেশিনে ভাঙিয়ে পাউডার করা হয়। ওই পাউডারের নামই চারকোল পাউডার। যা দিয়ে তৈরি হয় মূল্যবান কার্বন পেপার, ফটোকপিয়ার এবং কম্পিউটার প্রিন্টারের কালি।
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই বা চারকোল পাউডার তৈরি করা হয়। ভাঙানো পাউডার সাড়ে ১২ কেজি বা ১৫ কেজির দুই স্তরের পলিব্যাগে ভরা হয়। যাতে করে ব্যাগের মধ্যে বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। এরপর লেমিনেটেড ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে সেলাই করা হয়। সেলাইকৃত ব্যাগগুলো ২/৩ দিন খোলা স্থানে খাড়া করে রাখা হয়। এরপর তা গোডাউনে কমপক্ষে ২১ দিন রাখতে হয়। এই পাউডার এখান থেকে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। সেখান থেকে জাহাজে করে পাঠানো হয় চীনে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইমপিগনো কারখানা অভ্যন্তরে ছাই বা চারকোল পাউডার উৎপাদনের কাঁচামাল হাজার হাজার মণ পাটকাঠি মজুত করা হয়েছে। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকে। কারখানার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড়শ’ ব্যক্তি কাজ করেন।
কারখানার ম্যানেজার খোরশেদ আলম বলেন, ‘চায়নারা এ পাউডার দিয়ে কার্বন পেপার, ফটোকপিয়ার এবং কম্পিউটার প্রিন্টারের কালি তৈরি করেন।’
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব এ হাসান জানান, এখানে প্রতিমাসে গড়ে ১২ হাজার মণ পাটকাঠি পোড়ানো হয়। যা থেকে ৭৫ মেট্টিক টন ছাই বা চারকোল পাউডার উৎপাদন হয়। উৎপাদিত পাউডার চীনে রপ্তানি করা হয়। প্রতিটন পাউডারের দাম ৭০০ থেকে ৭৫০ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। ওই হিসেব অনুযায়ী প্রতিমাসে বৈদেশিক মুদ্রা আসে অর্ধকোটি টাকারও বেশি এবং ৬ মাসে (মৌসুমে) তিন কোটি টাকারও অধিক।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে মাগুরা জেলা এবং জেলার পাশর্^বর্তী ফরিদপুর ও রাজবাড়ীসহ কয়েকটি জেলার প্রায় ৪০টি কারখানায় চারকোল ও চারকোল পাউডার উৎপাদন হয়। এসব কারখানা থেকে বছরে প্রায় ৭ হাজার ৭১ মেট্টিক টন চারকোল ও চারকোল পাউডার বিদেশে রপ্তানি হয়। বছরে আয় হয় প্রায় ৪০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। এসব কারখানাগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
 

আরও খবর

🔝