আজ রবিবার, ৯ আশ্বিন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: রেস-থ্রিতে কেমন হবে জ্যাকলিনের চরিত্র       এবার চাবি ছাড়াই চলবে গাড়ি!       চুমু খাওয়ার সময়ে মাথা ডান দিকে হেলে যায় কেন?        ডিম খেলে কীভাবে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে       ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী       সেই সাব্বিরই বাঁচালেন বাংলাদেশকে!       শেরপুরে কলেজছাত্রী ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি       রোহিঙ্গারাই বোমা ফাটাচ্ছে, ফের দোষারোপ সেনাপ্রধানের       এবার বিচারকের আসনে মালাইকা আরোরা       চোখ ও ঠোট দেখে চিনতে পারবেন সঙ্গীকে      
মৃন্ময়ি মাঝে চিন্ময়ি রূপের আর্বিভাব ঘটাতে মন্দিরে মন্দিরে চলছে রং তুলির আঁচড়
স্বপ্না দেবনাথ :
Published : Thursday, 14 September, 2017 at 12:16 AM, Update: 13.09.2017 10:16:30 PM
মৃন্ময়ি মাঝে চিন্ময়ি রূপের আর্বিভাব ঘটাতে মন্দিরে মন্দিরে চলছে রং তুলির আঁচড়আগামী মঙ্গলবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে মর্তলোকে মায়ের বাড়িতে দুর্গা দেবীর আগমন ঘটবে। চারদিকে তাই সাজ সাজ রব। সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুধু হিন্দু স¤প্রদায় নয় দেশের অন্য ধর্মের মানুষ এ উৎসবে সামিল হন নানাভাবে। ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গার বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ৫ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব। হাতেগোনা মাত্র এ কয়েকটি দিনে তাই সারা দেশের মত যশোরের বিভিন্ন পূজামন্ডপ, মন্দির এবং প্রতিমালয়গুলোতে চলছে দেবী প্রতিমা গড়ে তোলার ধুম। অনেক আগেই প্রায় সব স্থানে দেবীর মূল অবয়ব গড়ে তোলা হয়েছে। এখন শেষ পর্যায়ে চলছে রং তুলির কাজ।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, পুতুল পূজা করে না হিন্দু কাঠ মাটি দিয়ে গড়া, মৃন্ময়ি মাঝে চিন্ময়ি হেরী হয়ে যাই আত্মহারা। গভীর মর্মবাণী সমৃদ্ধ এ বাক্যটিই জানান দেয় কাদা মাটির তৈরি এ প্রতিমা কতটা শ্রদ্ধা, ভক্তি আর তাৎপর্য বহন করেন। মাটির প্রলেপ শেষে তাই মাতৃ রূপকে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুটিয়ে তুলতে সবথেকে বেশি কষ্ট করতে হয় প্রতিমা শিল্পী বা ভাস্করকে। কেননা পরম শ্রদ্ধা, আগ্রহ আর ভক্তিতে হাতের পরশ আর তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়ে ওঠেন দেবী। তাই এখন বলা চলে গুরু দায়িত্বের কারণেই দম ফেলার ফুসরত নেই দেবী প্রতিমার কারিগরদের। যশোরের বেজপাড়া পূজা সমিতি মন্দির, বকচর লক্ষ্মী নারায়ন মন্দির সহ সদর উপজেলার বিভিন্ন বারোয়ারি মন্দির ঘুরে দেখা গেছে প্রতিমা নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। দু’এক স্থানে এখনো দ্বিতীয়বারের মত মাটির প্রলেপ দেয়া হলেও অধিকাংশ স্থানেই চলছে প্রতিমা রং করার কাজ। শৈল্পিক চিন্তাধারায় হাতের নৈপুণ্যের সাথে তাদের কাজ চলছে দিনরাত।
সাতক্ষীরা শ্যামনগর এলাকা থেকে আসা প্রতিমা শিল্পী গৌতম কুমার বলেন, তারা ২ মাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এখন কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে। প্রতিটি প্রতিমা বাঁশ-খড়খুটো দিয়ে তৈরি দেবীর অবয়বে মাটির প্রলেপ দেয়া শেষে এখন দিনরাত চলছে রঙের কাজ। তিনি বলেন, যশোর ও নড়াইল জেলার ৯টি মান্দিরের প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি ও তার বাবা। এটাই তাদের পৈত্রিক পেশা উল্লেখ করে তিনি বলেন তাদের কয়েক পুরুষ এ কাজ করছেন। সারা বছর তারা দেবীর আগমণী বার্তার জন্য অপেক্ষা করেন। কেননা এ কাজের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়।  
বেজপাড়া পূজা সমিতি মন্দির ও বকচর লক্ষ্মী নারায়ন মন্দিরের প্রতিমালয়ে কাজে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যশোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে অর্ধশতাধিক প্রতিমা তৈরির অর্ডার নিয়েছেন তারা। মাটির প্রলেপ শুকিয়ে যাওয়ার পরে রং তুলির কাজ শুরু করেছেন তারা। রঙের কাজ সবচেয়ে কঠিন বিধায় এ কাজটি যথেষ্ট সতর্কতার সাথে করতে হয় তাই দিনরাত খেটে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। অর্ডারের বাইরেও হঠাৎ প্রয়োজনে অনেকের দরকার মেটানোর জন্য এক দু’টি  বাড়তি প্রতিমা তৈরি করেন বলে জানান তারা। এ কাজ সম্পর্কে তারা আরো বলেন প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু সে হিসেবে প্রতিমা তৈরির বাজেট বাড়াচ্ছেন না পূজা আয়োজক কমিটি। তাই আর আগের মত মুনাফা তাদের হয় না। প্রতিমার ধরণ, পোষাক, গহনার উপর ভিত্তি করে মানভেদে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০-৭০ হাজার টাকায় প্রতিমা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা যায়। এভাবেই দিনে দিনে দুর্গেশপতœী শারদাকে স্বাগত জানাতে রংতুলির অঁচড়ের পাশাপাশি সবার মাঝেই রঙিন প্রস্তুতি। কামনা কেবল আশীর্বাদ। চাওয়া হলো  জগজ্জননী তাঁর অলৌকিক শক্তি দিয়ে দূর করবেন সব পাপাচার।
 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft