শিরোনাম: খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে জমজ দু’ভাইয়ের মৃত্যু       যশোরে করোনায় নতুন শনাক্ত দু’জন       ইজিবাইকে তিনজনের বেশি যাত্রী নয়       মণিরামপুরের নতুন ইউএনও সৈয়দ জাকির হাসান       মাগুরায় আরও তিনজন করোনায় আক্রান্ত       করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে নারীর মৃত্যু       ফেসবুক লাইভে সুকুমার দাসের সুরের মায়াজালে        কুষ্টিয়ায় আরও ৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত       ব্রাজিলে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজার করোনা শনাক্ত       যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ১০৮১ মৃত্যু      
চাল-তেল চোর : নির্বাচনের অযোগ্য করুন
নাজমুল হক :
Published : Saturday, 25 April, 2020 at 4:48 PM
চাল-তেল চোর : নির্বাচনের অযোগ্য করুন পরমানু কিংবা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নয়; চলছে করোনার বিরুদ্ধে বিশ্বযুদ্ধ। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী রাষ্ট্রই চলমান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বড় গাছে ঝড় লাগে বেশি; তার সহ্য করার ক্ষমতা বেশি থাকলেও হয়েছে তার উল্টো। বিপর্যস্থ হয়েছে আমেরিকার ক্ষমতার দম্ভ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। আমাদের দেশের গ্রাম-ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিধর হলো ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ স্থানীয়রা নেতা। কিছু নেতার কারণে স্থানীয় মানুষ তটস্থ থাকে। ধরাকে সরা জ্ঞান করা কতিপয় নেতা এবার ফেঁসেছে গরিবের চাল চুরি করে। চাল-তেল চোরদের প্রতি স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুশিয়ারী দিয়ে কঠোর শাস্তির কথা বলেছেন। যার রেজাল্ট ২৪ জন চেয়ারম্যান-মেম্বর সাময়িক বরখাস্ত; প্রায় তিনশত চাল চোরের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। যার সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, চাল-তেল চোরদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় কেন? কেন তাদের জাতীয় বেইমান হিসেবে চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বয়কট করা হচ্ছে না?
বাংলার মানুষকে প্রাণঘাতী করোনামুক্ত রাখতে সরকার কয়েক দফায় গোটা দেশকে অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া দুস্থ্য ও অসহায় শ্রমজীবী মানুষ। মানুষ চরম খাদ্য সংকটে। অসহায় বিপন্ন মানুষের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন যেগাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না’ এমন নীতি নিয়ে যখন সরকার প্রধান কাজ করে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই বিবেকবর্জিত গুটি কয়েক নেতা-কর্মীর কর্মকান্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ভালো কাজগুলো। ৫০ লক্ষ মানুষকে রেশন সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয়ের শুরুতেই দলের নেতা-কর্মীরা শুরু করেছে চাল চুরি। গরীবের চাল খেয়ে অনেকের হয়েছে বদহজম। তেলের উপর ঘুমাতে গিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে লাল দালানে। যার কারণে সরকার চাল বিক্রি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। গরীবের জন্য কর্মসূচি দলের কিছু নেতাকর্মীদের জন্য বন্ধ হওয়ার খেসারত গরীবকেই দিতে হচ্ছে। আবার প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও কতিপয় নেতা চাল চোরদের পক্ষ নিয়ে আদালতে পর্যন্ত গেছে। চোররাইতো সরকারকে ডুবাচ্ছে। তাহলে চোরদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় কেন? জনপ্রতিনিধি কতটুকু জনবান্ধব? দুর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি ও মুনাফাখোরী জনপ্রতিনিধিদের এখনই লাগাম টেনে ধরতে হবে। ‘মূল গাছের চেয়ে আগাছা’ বেড়ে গেলে তা ছেঁটে ফেলাই ভালো। দলীয় লোকজন চুরি করলে তাদের না ধরে প্রশ্রয় দিলে বলা যাবে দল চুরি করছে, তাছাড়া নয়। দেখার বিষয় হলো, দলীয় সরকার দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা চোরদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, নাকি চোর ধরছে? এই চোরদের প্রশ্রয় না দিয়ে বরং ধরছে আওয়ামী লীগ সরকারেরই প্রশাসন, এটাই বাস্তবতা। চাল-তেল চোররা যাতে কোন ভাবেই নির্বাচনে অজীবন অংশ না নিতে পারে সে বিষয়েও প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
‘চুরি বিদ্যা বড় বিদ্যা যদি না পড় ধরা’। চুরি করা যাদের স্বভাব; চুরি ছাড়া যারা থাকতে পারে না। তেমন কিছু চোরের আবির্ভাব ঘটেছে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। জাতীয় দুর্যোগের সময়ও একই অবস্থা এইসব চোরের। অথচ এই চোর জনপ্রতিনিধিরাই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ছাত্র-চাকুরি প্রত্যাশীদের চারিত্রিক সনদ দিয়েছিলো। চোরদের কাছ থেকে সনদ নিয়ে তা কতটুকু ফলপ্রসু হবে। সময় এসেছে পালাবদলের।
ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি, মুনাফাখোরি বাংলার দুঃখী মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে দিয়েছে। চাল-তেল চুরির সাথে আরো কিছু বিষয় জড়িত থাকে। অন্তত তাদের আত্মপক্ষ সমার্থনে দাবী হলো, খাদ্য গুদাম থেকে ওজনে কম চাল দেয়। সরকারি চাল, টিসিবি’র তেল তুলতে গেলে টেবিলে টেবিলে টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া চাল-তেল ছাড়করণ হয় না, যার রয়েছে নির্দিষ্ট রেট। বিষয়টি একেবারেই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। ১০ টাকা কেজি দরে চাল, টিসিবির তুলতে যদি গুদাম ও কর্মকর্তাদের চুরির ভাগ দিতে হয় তাহলে কিভাবে তারা সঠিক চাল-তেল দেবে? কোন ব্যবসায়ী বা জনপ্রতিনিধি তো বাড়ি থেকে এনে দিবে না। সরকারি বরাদ্দ তুলতে যে স্তরে স্তরে পয়সা গুনতে হয় তার খরচ তো তারা প্রান্তিক গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটাবেই, এটিই স্বাভাবিক। এ বিষয়ে একটি কেস স্টাডি শেষ থেকে শুরু করা যায়, তখন প্রকৃত চিত্রটি ফুটে উঠবে? গোড়া মেরে আগায় পানি ঢাললে গাছ যেমন বাঁচে না তেমনি প্রান্তিক চোরদের ধরলে উদ্দেশ্য সফল হবে না। ব্যাড়া ফসল খাচ্ছে তাই পদক্ষেপ দুদককেই নিতে হবে।
দেশের গ্রাম বা ইউনিয়ন পর্যায়ে যারা সরকারি ওএমএস, ১০ টাকা কেজি চালসহ অন্যান্য ডিলারশীপ পান তারা সকলে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু ডিলারগুলো কিভাবে নিয়োগ হয়? কতজন মানুষ খবর রাখে ডিলারশীপের? অধিকাংশ ডিলারশীপ নিয়োগ হয় দলীয় পরিচয় ও তদবীরে; যার সাথে রয়েছে খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তার গোপন আঁতাত। উপজেলা পর্যায়ে বেশির ভাগ ডিলার কোন প্রকার প্রচার প্রচারণা ছাড়াই নিয়োগ দেয়া হয়। যার কারণে অনেক সৎ, যোগ্য ব্যবসায়ীরা আসতে পারে না। সময় এসেছে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনার।
চাল চোরদের ধরা হচ্ছে, বরখাস্ত করা হচ্ছে, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হচ্ছে, তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে এবং আগামীতেও ওদের রেহাই নেই। তাদের সামাজিকভাবেও নিষিদ্ধ করতে হবে। করোনায় বিদেশ ফেরত ও বাহিরের জেলা থেকে আগতদের বাড়িতে লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এবিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ। চাল চোরদের এখনি যদি সমন্বিতভাবে প্রতিহত না করা যায় তাহলে আগামীতে এরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। চোরদের ছবিসহ নামের তালিকা করে তা গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতে টাঙিয়ে রাখতে হবে। বর্তমানে করোনাকে কেন্দ্র করে চুরি করছে, সুতরাং চোরদের বাড়িও লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দিন। লিখে দিন এটা চাল-তেল চোরের বাড়ি।

লেখক: প্রাক্তন খুলনা বিভাগীয় সিনিয়র রোভার মেট প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা, ০১৭৭২-৮৭৬৭৪৪





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Design and Developed by i2soft