
আমাগের এক ম্যা’ভাই খুব হিসেবী লোক। বয়েস তার ভাটির কান্দায় তবু তার চ্যাদবোদ আর হিসেব টনটাইট। তারে ভুগোল পড়ায় পার পাইয়ে গেচে ইরাম লোক নেই কলিই চলে। ম্যালাদিন পরে সেই ম্যা’ভাইর সাতে তেমাতায় মুলাকাত হইলো। কুশলাদি বিনিময় কইরে চা খাতি বইচি কেবল। এরমদ্দি এক লোক বোগলে এটাচিপানা এক বাইকশো নিয়ে আমাগের পাশে বইসলো। সালাম কালাম দিয়ে ম্যা’ভাইর সাতে খোশ গল্প জুইড়ে দেলে। আমার আর কি করা, সুজন শ্রোতা হইয়ে শুনতি লাগলাম। ইনোয় বিনোয় ইডা উডা কওয়ার পর সেই লোক অবলাস্টে থলের বিলেই বাইরো কইল্লো। জীবনে টাকা কামোয় করা যতডা জরুলী তার চাইতি বেশি জরুলী সেই কামোয় করা টাকা কোন পতে খরচ করবে। আর খচ্চার চাইতি জরুলী ভবিষ্যতের কতা ভাইবে টাকা সঞ্চয় করা। এই সঞ্চয় য্যানে স্যানে কল্লি হবে না। ইরাম জাগায় কত্তি হবে যেন হিসেব পাকলি টাকা ডবল বা তিন ডবল হয়। আর না পাকলিও ক্ষেতি নেই কাচাডাও লাভ জনক যদি জাগা বুজে জমানো হয়। ম্যা’ভাই খুব ভক্তি ভরে তার কতা শুনছিলো। ভাব দেইকে মনে হইলো জীবনে পেত্তম ইরাম কতা শুনতেচেন। মুক্কু সুক্কু মানুস হলি গাও গিরাম চইরে ইডা বুজদি বাকি নেই ভদ্দরলোক বীমা কুম্পানীর লোক। পটায় পুটোয় কাস্টমার ধরার জন্যি নানান সুযোগ সুবিদের ফিরিস্ত দেচ্চেন। তিনি আট বচর, দশ বচর. বারো বচর, আঠারো বচর, চব্বিশ বচর ইরাম নানা বচরের হিসেব ধইরে টাকা জমালি তা পাইকে কিরাম বাম্পার ফলন হবে সিডা নিয়ে বইগে যাচ্চিলেন। ম্যা’ভাই তারে থামায় দিয়ে কলেন, বাপুরে পেত্তেক দিন এট্টু দুধ কলা খায়। পাকা কলা কিনার সুমায় খিয়াল রাকি যিডার গা এট্টু কম হলদে সিডা কিনিনে, ক্যান কও দিনি? বীমায়ালা কলে ক্যান ভাই ! ম্যা’ভাই কলে বয়েস য্যানে যাইয়ে ঠেকেচে স্যানে এট্টু কাচা কলা যে পাকায়ে পদ্দিন পাকায় খাতি পারবো সেই ভরসা কত্তি পারিনে। আর স্যানে তুমি দশ বারো বচর পর টাকা জমালি কত পাবো তাই বুজোদি আইচাও। বীমায়ালা পেত্তমে যে আল্লাদে আটখান হইলো পরে মুকখান শুকোয় এ্যাবার আমচুর। ম্যা’ভাই আর বীমায়ালা চইলে যাতি মনে হইলো আমাগের দশাও ম্যা’ভাইর মতো। আশপাশে দেকতিচি বহুত মানুস বহুত পরিকল্পনা কচ্চে। কিডা কমনি লাভ ডবল, তিন ডবল করবে সেই চিন্তায় বেভুর। কিন্তুক ভাবনার কাচা কলা পাকা দেকতি পারবে কিনা তার ভরসা কিডা দিতি পারে। আলাম কনে, মলাম যে ! ইতি- অভাগা আক্কেল চাচা
মন্তব্য করুন