
এক এলেকায় এক ছ্যামড়া ছিল। চুরি চামারী কইরে বেড়াতো। চুরি না কত্তি পাল্লি যেন থির থাকতি পাইত্তো না। তারে নিয়ে এলেকায় কম শালিস বিচার হয়নি। এক এট্টা চুরির খাইন বাদে। লোকে তারে ধইরে পুলিশি দেয়। আবার কিভাবে কিভাবে যেন থানাত্তে বাইরোয় চলে আসে। লোকজনের সুমকি সিনে ফুলোয় বেড়ায়। ভাবডা ইরাম, তুরা আমার কিচ্চু কত্তি পারবিনে। উল্টে লোকজনই বিয়াকুপ হয় তারে দেইকে। লোকজন ভাবে থানা পুলিশ ওপর মহলের সাথে তার সেইরাম খায় খাতির। তাই তার সঙ্গে লাগদি না যাওয়ায় ভালো। এলেকার এক মুরুব্বী ছিল সেই ছ্যামড়াডারে বহুত নসিহত কইরেচে কিন্তুক লাইনি আনতি পারিনি। কতায় কয় চুরা না শোনে ধম্মের কাহিনী। এইরাম কইরে বেশ কিচুদিন গড়ায় গেলো। একদিন স¹লি অবাক। সেই চুরা ছ্যামড়াডা মাটে যাইয়ে কাজ কচ্চে। সুমায় মতো মসজিদি যাইয়ে নামাজ কালাম পড়চে। কোন চুরি চামারির নাম গন্দ নেই। যে মুরুব্বী তারে সব সুমায় নসিহত কইত্তো তিনিও আকাটা মাইরে গেলেন। হ্যাতো ধম্মের দুহায় আর নীতিকতা শুনোতাম সে ভাল হইলো না, হটাস কি ইরাম ঘইটলো যে হাপন ইচ্চেয় সে ভালো হইয়ে গেলো। একদিন মুরুব্বী সেই ছ্যামড়াডারে তফাতে ডাইকে নিয়ে চাপনিতি শোনলেন, কিরে খুকা। হটাস ইরাম ভালো হইয়ে গেলি, ফ্যারডা কি! ছ্যামড়াডা দুক্কু কইরে কলে, চাচা মানসির একন নীতি নেই। তাই চুরি বিদ্যে ছাড়ান দিয়ে কাজ কইরে খাচ্চি। কতি পারো মানসির খাইসলত হ্যাতো খারাপ হইয়ে গেচে যে হ্যাতো দিনির পুরোন পিশা বাদই দিতি হইলো। ছ্যামড়াডার কতা শুইনে মুরুব্বী থ’ মাইরে গেলে। ছ্যামড়াডা কলে, আগে চুরি কত্তাম। লোকে থানায় অভিযোগ দিতো। থানায় তলশুড়া যুগাযোগ ছিল। চুরায় মাল আদ্দেক আদ্দেক। তাতে দিয়ে থুয়ে কিচু থাইকতো। একন আবার নতুন নিয়ম হইয়েচে এক ভাগ থানা,এক ভাগ লুকাল কুচো নিতা এক ভাগ আমার। কিন্তুক মানুস সব হ্যাতো স্যায়না হইয়ে গেচে। যা চুরি করি থানায় তার তিনগুন অভিযোগ লেকে। তুমিই কও, দুইজন ভাগুরেরে কি দিব আর আমিই বা কি নেব। তাই ছাড়ান দিয়ে দিচি। তার কতা শুইনে মুরুব্বীর পাটায় পড়ার জুগাড়। আলাম কনে, মলাম যে ! ইতি অভাগা আক্কেল চাচা
মন্তব্য করুন