
বিটাডার নাম গুলাম মোস্তফা। মা মরা মাইয়ে নিয়ে থাকতেন গাজীপুর। পিশায় তিনি হোটেল শোমিক। সামান্য আয় দিয়ে বাপ মাইয়ের সুংসার টাইনে টুইনে চলে যাচ্চিল।
বাংলাদেশ বিমানের বড় অফিসারের বাসায় তার কুটি বাইচ্চা দেকাশুনোর জন্যি এট্টু ছোটপানা একজন কাজের লোকের দরকার। বড়লোকের বাড়ির সিকুরিটি গাড জাহাঙ্গীর চা’র সাথে গুলাম মোস্তফার খায় খাতিরির সুবাদে ১১ বচরের মাইয়েডারে গ্যালো জুন মাসে কাজে দিলেন। সব্বশেষ নভেম্বর মাসে মোস্তফা চা মাইয়েডার সাতে দেকা কইরে আইলেন। মাজেমদ্দি মুবালি মাইয়ের সাতে কতা কতেন।
এরপর বাপ তার মাইয়ে দেকতি গেলি ছল্লিবল্লি কইরে দেকা কত্তি দিয়ে খেদায় দিতো। এরমদ্দি গ্যালো ৩১ জানুয়ারি মোস্তফা চা’র মুবালি কল করেন বড় অপিসারের বউ। তিনি জানান তার মাইয়ের শরীল খারাপ। আইসে যেন তিনি তার মাইয়েরে নিয়ে যান। দুপার এট্টা দুডোর দিকি বাপ মাইয়েরে নিতি আসলি তারে বসায় রাকা হয় সন্দে পন্তিক। সন্দের পর মাইয়েডারে বাপের হাতে ধরায় দিয়ে ঘরের দোর বন্দ কইরে দেয়।
তকন বাপ মাইয়ের করুন দশা দেইকে কাইন্দে জারেজার হইয়ে গিলো। মাইয়ের দুইহাতসহ সারা শরীলি জখম। গরম খুন্তির ছ্যাকার দাগ। মাইয়েডা থরথর কইরে কাপছে। বাপরে জড়ায় ধইরে ভয়তে চোক মুক আঙরা, মুক দিয়ে কোন কতা কতি পাচ্চে না। অবস্তা বেগতিক দেইকে বাপ মাইয়েরে নিয়ে হাসপাতালে ভত্তি করেন। স্যানে ডাক্তাররা মাইয়ের দশা দেইকে আকাটা মাইরে যায়।
পরে জানাজানি হয় কি অমানবিক নিযযাতন করা হইয়েচে এইটুক এট্টা মাইয়ের ওপর। খাতি দিত না, পায়খানা ঘরে তারে আটকায় রাাইকতো। খিদের জালায় টিসু কাগজ পন্তিক খাইয়েচে, তবু মাইয়েডারে একমুট ভাত দিনি।
এই সব খবর শুনলি জানের মদ্দি হুহু কইরে কাইন্দে দেয়। স¹লির ঘরে মাইয়ে ঝিবুত আচে। ইরাম অমুনিষ্যি কাজ তারা করে কি কইরে! ভাবিলো গরীবগুরো মানসির মাইয়ে মাল্লি কি আর হবে। তেবে মাইয়েডার বাপ সাহস কইরে মামলা করিল। তাতেই কট খাইয়েচে সেই বড়সাহেব আর তার বউ। শুনলাম বড় সাহেবের চাকরি এরমদ্দি খ্যায় হইয়ে গেচে।
এবার বউ সমেত এট্টা দিস্টান্তমূলক শাস্তি হোক যাতে ইরাম কাজ কেউ কত্তি গেলিও একবার ভাইবে নেই। কি সব্বোরাশে কতা কওদিনি বাপু ! আলাম কনে, মলাম যে !
ইতি অভাগা আক্কেল চাচা
মন্তব্য করুন