
আমাগের মোড়ল চা যিরাম লগুড়ে সিরাম খানেয়ালা। এককনকার ছিলেপিলে অবশ্যি জানবে না খানেয়ালা মানে কি। যাগের একমুঠো ভাত দেড়ি খালি সাতে গ্যাসের বড়ি খাতি হয় তারা কি কইরে বোঝবে খানেয়ালার মানে।
ময় মুরুব্বীগের মুকি শুনিচি তারা বাজি ধইরে খাওয়া দাওয়ায় লাইগদো। পাল্লপাল্লি হইতো কিডা কত বেশী খাতি পারে। তকন অবশ্যি জিনুস পত্তরও ছিলো আমাড়। হাজারেও ব্যাজার হইতো না মানুস। আর একন তো টিপেটাইপে চলতি হয়। তাই ওই সব ভানাচিতি কেউ আইগোয় না।
একন এট্টা কাজের জন্যি লোক তলাশ কইরে পাওয়া যায় না। তকন বিঘের পর বিঘে জমির ধান মানুস ব্যাগারে কাইটেচে। পুকোর খুচা, মাটি কাটা, ঘরদোর গড়া ইরাম কি বিচোলি গাদা দিতিও মানুস ব্যাগার দেচে। তেবে সেই ব্যাগারে টাকা কড়ি না থাকলিও সবাই যাইতো গাতা বাইন্দে।
একসাতে কাজ কইরে এক সাতে বইসে মনের সুকি খাওয়ার জন্যি। গেরস্তরাও চিস্টা কইতো সব্বোচ্চ আপ্যায়ন কত্তি। বাড়ি মাইটে কুলায় জমানো চেকন চাইল আর আইড়ে মোরগ দাবড়ায় ধইরে রাইন্দে দিতো ব্যাগারেগের খাওয়ানোর জন্যি।
বাড়ির মাইয়ে ঝিবুতরা চিস্টা কইত্তো কেউ যেন কতি না পারে প্যাট ভরিনি আর ব্যাগারেরাও পন কইরে আইসতো যিরাম কইরেই হোক হাড়ি চুয়া কইরেই ছাড়বো। সেই সব দিনির কতা কতি গেলি মোড়ল চা’র চিহারায় যেন কষ্ট ফুইটে ওটে। কন্তে কি হইয়ে গ্যালো দেকতি দেকতি, কিরাম কইরে যেন সব ছবির মতো বদলায় গ্যালো আমাগের আশপাশ।
একন মানসি মানসির সেই মিলমিশ আর নেই। আগে এক বাড়ি লোক মল্লি অন্তত এক সপ্তা তাইগের বাড়ির চুলোয় হাড়ি চড়িনি। আশপাশত্তে লোকজন রাইন্দে বাইড়ে দিয়ে গেছে। পাড়া পোতিবেশীরা আইগোয় আইসে সে সময় পাশে দাড়ায়েচে।
আর একন গোর খুচতি গেলিও টাকা লাগে, কন্টাকে যাতি হয় কি কি পদে খাওয়ানো লাগবে নাই গোরের মাটি উলানোর দায় শোধ হবেনা। এ সব নিয়ে কতা উসাতিই মোড়ল চা’ এট্টা লম্বা হাই ছাইড়ে কলে, আগের মানুস এত স্যায়না ছিলো না।
মুরুব্বীরা এট্টা কতা কলি মানবিচ কইত্তো। মানুস যত স্যায়না হচ্চে ততই ক্ষেতি বাড়চে। কারে কি কবো ক’। একন কতা কতিও ভয় লাগে, কোন খাইন বাইদে যায় কিডা জানে।
ইতি অভাগা আক্কেল চাচা
মন্তব্য করুন