
এক-এগারো সরকারের সময়ের নির্যাতন ও পরবর্তী সময়ে লন্ডনে প্রবাস জীবন কাটানোর পর অবশেষে দেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর ও ৩০০ ফিট মঞ্চে রাজকীয় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে পা রাখলেন। প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
তার সঙ্গে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরেছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
বিমানবন্দরে তাদের বরণ করতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের জন্য রাখা হয়েছে বুলেট প্রুফ গাড়ি। গাড়িতে চড়ে তারেক রহমান পৌঁছবেন ৩০০ ফিটের সংবর্ধনা মঞ্চে, যেখানে রাজকীয় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে ২৪ ডিসেম্বর রাতে লন্ডনের বাসা থেকে রওনা হয়ে সোয়া ১০টার দিকে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান ও পরিবার। এরপর রাত সোয়া ১২টায় তাদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশের উদ্দেশে ঊড়ে যায়। ফ্লাইটটি দুবাইতে যাত্রা বিরতি দিয়ে, এরপর সিলেট ও ঢাকায় অবতরণ করে।
ঢাকায় নেমে প্রথমে ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখানে একমাত্র বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
২৬ ডিসেম্বর তিনি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ও সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাবেন। একই দিন শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবরও জিয়ারত করবেন।
৩০০ ফিটে তৈরি মঞ্চে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে লাখ লাখ নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন। সকাল থেকে আগত জনতার ঢল মঞ্চে প্রবেশের জন্য স্থানই ফুরিয়ে গেছে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমানের উপর চালানো হয় ব্যাপক নির্যাতন। ১১ সেপ্টেম্বর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ৫ আগস্ট দেশে ফিরে বাধা দূর হয়ে গেছে।
বিএনপি দল তারেক রহমানকে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করছে। দলের নেতারা মনে করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটবে।
মন্তব্য করুন