
বার্সেলোনা ও পিএসজিতে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলেছেন ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র। ক্লাব ফুটবলে তাদের বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার গল্প বহুবার আলোচনায় এসেছে। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তারা প্রতিনিধিত্ব করেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে।
সম্প্রতি এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে নেইমারকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে মাঠে দেখতে চান তিনি।
‘লো দেল পোলো শো’ পডকাস্টে মেসি বলেন, বিশ্বকাপে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের উপস্থিতি থাকা উচিত এবং নেইমার তাদেরই একজন।
মেসির ভাষায়, বিশ্বকাপে আমরা সেরা খেলোয়াড়দের দেখতে চাই। নেইমারের বর্তমান ফর্ম যেমনই হোক না কেন, সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তাকে বিশ্বকাপে দেখতে পাওয়া ফুটবল এবং ব্রাজিল—দুয়ের জন্যই দারুণ ব্যাপার হবে।
নেইমারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও খোলামেলা তুলে ধরেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। তিনি বলেন, আমি নিরপেক্ষ থাকতে পারি না, কারণ নেইমার আমার খুব ভালো বন্ধু। আমি চাই তার জীবনে ভালো কিছুই ঘটুক। সে অসাধারণ একজন মানুষ এবং অবশ্যই ভালো কিছু প্রাপ্য।
মেসি ও নেইমারের বন্ধুত্বের শুরু বার্সেলোনায়। সেখানে লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গড়ে ওঠে বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ী। পরে পিএসজিতেও দুই মৌসুম একসঙ্গে খেলেন তারা।
এই মুহূর্তে মেসি ৩৮ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে, খুব অভাবনীয় কিছু না ঘটলে তিনি এবারই শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন। অন্যদিকে, তারচেয়ে ৪ বছরের ছোট হলেও বার্সেলোনায় চার মৌসুম এবং পিএসজিতে দুই মৌসুম একসঙ্গে খেলার পর দারুণ উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে মেসি-নেইমারের মধ্যে। দুজনেই ২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে যান। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এমএলএস ক্লাব ইন্টার মায়ামি এবং সেলেসাও তারকা সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-হিলালে যোগ দেন। মেসি আমেরিকান সকারে বিপ্লব তৈরি করলেও, নেইমার ইনজুরিতে জর্জরিত সৌদি অধ্যায়ে ইতি টেনে ফিরেছেন শৈশবের ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসে।
সাবেক ক্লাব সতীর্থ নেইমারকে প্রশংসা ভাসিয়ে মেসি বলছেন, ‘তার খুবই বিশেষ ক্যারিশমা আছে। সে অত্যন্ত সহজ-সরল এবং প্রাণবন্ত একজন মানুষ। কোনো রকম কৃত্রিমতা ছাড়াই সে জীবন কাটাতে পছন্দ করে এবং কে কী ভাবল, তা নিয়ে সে মাথা ঘামায় না। সে নিজের জীবন উপভোগ করে, সন্তুষ্ট থাকে এবং তার সামগ্রিক বিষয় খুবই প্রাকৃতিক।’
নেইমার নিজেও শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে মরিয়া। যে কারণে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির কথামতো বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে সর্বোচ্চ নিবেদন দিয়ে যাচ্ছেন। ব্রাজিলের সর্বকালের এই সেরা গোলদাতা (৭৯ গোল) অবশ্য জাতীয় দলে সর্বশেষ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এসিএল ইনজুরির কারণে লম্বা সময় বাইরে থাকার পর আরও কিছু ছোট ছোট চোট নেইমারের জাতীয় দলে ফেরায় দেয়াল তুলে দিয়েছে। তাকে নিয়ে আশাবাদী শোনালেও দলে থাকার নিশ্চয়তা দেননি আনচেলত্তি, ‘সে শতভাগ ফিট হয়ে ফেরার মতো সামর্থ্য রাখে।’
মন্তব্য করুন