
আরও একবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছে গেল ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার রাতে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মোট ৬-৫ ব্যবধানে ফাইনাল নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
প্রথম লেগে প্যারিসে রোমাঞ্চকর ৫-৪ ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল পিএসজি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার তারা ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছে গেল।
উসমান দেম্বেলে একটি দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন। এই গোলে ছিল খিচা কাভারাতসেখেলিয়ার অসাধারণ অবদান। তিনি বাম প্রান্ত দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে রক্ষণভাগ চিরে ভেতরে ঢুকে দেম্বেলেকে লক্ষ্য করে কাটব্যাক পাস দিয়েছিলেন।
ম্যাচের ৩০ মিনিটের কিছু সময় পর বায়ার্ন খেলোয়াড়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। রেফারি নুনো মেন্ডেসের একটি হ্যান্ডবল কল করতে অস্বীকার করেন। তাছাড়া তিনি ইতোমধ্যেই একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। এর পরপরই জোয়াও নেভেসের বিরুদ্ধে পিএসজির পেনাল্টি বক্সে আরেকটি হ্যান্ডবলের আবেদন উঠলেও রেফারি তা নাকচ করে দেন।
এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে কাভারাতসেখেলিয়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের টানা সাতটি ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড গড়লেন। বর্তমানে এই মৌসুমে তার গোল ১০, ৬ অ্যাসিস্ট, যেটা কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান। পিএসজি এবং বায়ার্ন ৪৩ ও ৪২ গোল করে এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে দ্বিতীয় লেগে খেলতে নেমেছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এই প্রথম একই মৌসুমে দুটি দল ৪০-এর বেশি গোল করার রেকর্ড গড়ল, যেখানে অবশ্য টুর্নামেন্টের নতুন 'লিগ ফেজ' ফরম্যাট বড় ভূমিকা রেখেছে।
পুরো ম্যাচজুড়ে বায়ার্ন চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে হ্যারি কেইনের সান্ত্বনামূলক গোলটি ছাড়া আর কোনো জালের দেখা পায়নি। এর ফলে ২০২০ এবং ২০১৩ সালের মতো 'ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন এক গোলের ব্যবধানে শেষ হয়ে যায় বায়ার্নের।
মঙ্গলবার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ১-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্সেনাল। পিএসজি এখন রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। রিয়াল মাদ্রিদ ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার এই শিরোপা জিতেছিল।
মন্তব্য করুন