
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক কাফু মনে করেন, পুরোপুরি ফিট অবস্থায় নেইমার মাঠে নামলে ম্যাচের গতিপথ একাই বদলে দিতে পারেন। দীর্ঘদিনের চোট, বয়সজনিত চ্যালেঞ্জ এবং ফর্মের অনিশ্চয়তার মাঝেও ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার ওপর এখনো আস্থা রাখছেন তিনি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাফু বলেন, টেকনিক্যাল দক্ষতার দিক থেকে নেইমারকে তিনি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও এগিয়ে রাখেন।
তিনি বলেন, আমার কাছে টেকনিক্যালি নেইমার রোনালদো ও মেসির চেয়েও ভালো ছিল। তার ক্যারিয়ার ছিল অসাধারণ।
একসময় নেইমারকে মেসি-রোনালদো যুগের পরবর্তী বিশ্বফুটবলের বড় তারকা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু একের পর এক চোট তার ক্যারিয়ারকে থমকে দেয়, ফলে ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্নও অপূর্ণ থেকে যায়।
বর্তমানে নেইমার তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে নিজের সেরা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছেন। আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে জায়গা পেতে হলে তাকে অবশ্যই ফিটনেস ও ফর্ম—দুটোই প্রমাণ করতে হবে।
তবে কাফুর মতে, যদি নেইমার শারীরিক ও ট্যাকটিক্যালভাবে ফিট থাকেন, তাহলে তাকে দলে না নিয়ে উপায় নেই। ‘নেইমারের মতো খেলোয়াড় থাকলে অবশ্যই তাকে নিতে হবে। সে ম্যাচের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে,’ যোগ করেন তিনি।
শেষ সিদ্ধান্ত অবশ্য কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও নেইমারের নিজের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন কাফু। ‘আনচেলত্তিই ভালো করে জানেন কী করবেন। আর নেইমারই সবচেয়ে ভালো জানে সে প্রস্তুত কি না।’
ব্রাজিল এবার ইতিহাসের নতুন পথে হাঁটছে। আনচেলত্তি হয়েছেন দেশটির প্রথম বিদেশি পূর্ণকালীন কোচ। এ নিয়ে কিছু বিতর্ক থাকলেও কাফু দেখছেন ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, ‘আমি এতে স্বচ্ছন্দ। আনচেলত্তি সবচেয়ে ব্রাজিলিয়ান ইতালিয়ান কোচ। কারণ তিনি অনেক ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছেন।’
কাফুর মতে, ব্রাজিলের ফুটবল আধুনিক হয়েছে। বেশিরভাগ সেরা খেলোয়াড় এখন ইউরোপে খেলেন। আনচেলত্তির মতো ইউরোপিয়ান কোচ এলে তাই স্বাভাবিক। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ইউরোপিয়ান হয়ে গেছে। ব্রাজিলিয়ান সত্তা সবসময়ই থাকবে।’
আনচেলত্তি আগেই বলেছিলেন, তিনি চান ‘ইতালিয়ান ডিফেন্স ও ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাক’। কাফু মনে করেন, এই মিশ্রণ সফল হতে পারে।
মন্তব্য করুন