
জার্মান কাপের সেমিফাইনালে দাপুটে পারফরম্যান্সে বায়ার লেভারকুসেনকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। দলের হয়ে একটি করে গোল করেন হ্যারি কেন ও লুইস দিয়াজ। ফলে বহুদিন পর আবারও শিরোপার লড়াইয়ে ফিরল বাভারিয়ান জায়ান্টরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই লেভারকুসেনের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালায় বায়ার্ন। তবে গোলরক্ষক মার্ক ফ্লেকেন ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি। তবুও বায়ার্নের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি লেভারকুসেনের রক্ষণ।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে বায়ার্নের প্রথম গোলটি আসে হ্যারি কেনের পা থেকে। লুইস দিয়াজের সাথে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিং থেকে ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে নিঁখুত শটে লক্ষ্যভেদ করেন ইংলিশ এই অধিনায়ক।
ম্যাচ জুড়ে ফ্লেকেন মোট ৮টি নিশ্চিত গোল সেভ করেন, যার মধ্যে ৬টিই ছিল ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া বায়ার্নের জোরালো শট। তার এই বীরত্বে ব্যবধান আর বাড়াতে পারছিল না বায়ার্ন। অন্যদিকে লেভারকুসেনও হাল ছাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধে নাথান টেল্লার একটি বুলেট গতির শট ম্যানুয়েল নয়্যার অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় রুখে না দিলে সমতায় ফিরতে পারত স্বাগতিকরা। নয়্যার পুরো ম্যাচে একটি মাত্র সেভ করলেও সেটিই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
ম্যাচ যখন ১-০ ব্যবধানে শেষের পথে, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লেভারকুসেনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় বায়ার্ন। সেন্টার ব্যাক কিম মিন-জের বাড়ানো চোখধাঁধানো এক থ্রু পাস খুঁজে নেয় লিয়ন গোরেৎজকাকে। গোরেৎজকা নিজে শট না নিয়ে বক্সের ভেতর থাকা লুইস দিয়াজকে পাস দেন এবং কলম্বিয়ান এই ফরোয়ার্ড ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ২-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন। এই গোলের সাথেই বার্লিনের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায় বায়ার্নের।
২০১৯-২০ মৌসুমের পর বায়ার্নের জন্য এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ছিল অনেকটা স্বপ্নের মতো। টানা কয়েক বছর আগেভাগেই বিদায় নেওয়ার পর এবার ফাইনাল নিশ্চিত হয় বাভারিয়ানদের। আগামী ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে এসসি ফ্রেইবার্গ বনাম ভিএফবি স্টুটগার্ট ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে।
মন্তব্য করুন