
বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন গতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তিনি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার আগুনঝরা বোলিং এখন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় আতঙ্ক।
তবে গতির সঙ্গে যেমন আসে সাফল্য, তেমনি থাকে ইনজুরির শঙ্কাও। সেই বাস্তবতা মেনেই নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নাহিদ।
মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদের বোলিং ছিল একক আধিপত্যের উদাহরণ। ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি কিউই ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত গুঁড়িয়ে দেন।
তার বোলিংয়ের গতি ছিল চোখে পড়ার মতো—৫৯টি ডেলিভারির বেশিরভাগই ছিল ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির। শেষ বলটিও একই গতির আশেপাশে ছিল, যা তার ধারাবাহিকতা ও ফিটনেসের প্রমাণ দেয়।
নাহিদের এই পারফরম্যান্সে নিউজিল্যান্ড দল অলআউট হয় মাত্র ১৯৮ রানে।
এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নাহিদ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ২৪ রানে। এ নিয়ে টানা দুই ওয়ানডি সিরিজে ফাইফার, যা তার উঠতি ক্যারিয়ারের বড় মাইলফলক। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতেও তিনি নিয়মিত প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছেন।
তবে এই সাফল্যের মাঝে একটা শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে ইনজুরি। বাংলাদেশের পেসারদের জন্য চোট যেন অনিবার্য এক সঙ্গী। তালহা জুবায়ের গতির ঝড় তুলে এসেও চোটের কারণে ক্যারিয়ার লম্বা করতে পারেননি। মাশরাফি বিন মুর্তজা শুরুতে এক্সপ্রেস পেসার ছিলেন, পরে চোটের জন্য মিডিয়াম পেসে নেমে আসেন। নাজমুল হোসেন, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব সবাই কোনো না কোনো সময় চোটের কবলে পড়েছেন।
নাহিদ জানেন, এটা পেস বোলিংয়ের স্বাভাবিক ঝুঁকি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যুদ্ধে নামলে গুলি তো লাগবেই। ক্রিকেট খেলতে গেলে ইনজুরি আসবেই, এটা স্বাভাবিক।”
একই সঙ্গে তিনি ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ওপর জোর দেন। “বিসিবির ফিজিও এবং যারা ওয়ার্কলোড দেখেন, তারা সবকিছু খেয়াল রাখেন; কোন ম্যাচ খেলব, কতটা খেলব। তারাই আমাদের দেখভাল করেন,” বলেন নাহিদ।
মন্তব্য করুন