
স্প্যানিশ ফুটবলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও এফসি বার্সেলোনার লড়াই মানেই উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ। তবে নারী এল ক্লাসিকোতে দীর্ঘদিন ধরেই একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়ে আসছে কাতালান ক্লাবটি।
উয়েফা মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ১২-২ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বার্সেলোনা নারী দল। দুই ম্যাচে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।
গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্প ন্যুতে দ্বিতীয় লেগে ৬-০ গোলের বড় জয় তুলে নেয় বার্সা। স্বাগতিকদের হয়ে জোড়া গোল করেন ক্যারোলিন গ্রাহাম হ্যানসেন। একটি করে গোল করেন অ্যালেক্সিয়া পুটেলাস, আইরিন পেরেদেস, ইভা পাজোর এবং এসমি ব্রুগটস।
প্রথম লেগে ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দুই লেগে বার্সার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদ কোনো গোলই করতে পারেনি।
৬০ হাজার স্বাগতিক দর্শককে ষোলোআনা তৃপ্তি দিয়েই খেললেন পুতেয়াস-হ্যানসেনরা। মাদ্রিদের বিপক্ষে বরাবরই দাপট ছিল তাদের, দুই দলের ২৫ বারের দেখায় ২৪টিতেই জিতেছে কাতালানরা। এর মধ্যে গত রোববার স্প্যানিশ লিগে ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচটিও রয়েছে। অর্থাৎ, এক সপ্তাহে তিনবার মুখোমুখি হয়ে ১৫-২ গোলের ব্যবধানে শতভাগ জয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টানা আট মৌসুমের সেমিফাইনালে ওঠার রেকর্ডও গড়ল তারা। যেখানে কাতালান মেয়েদের প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখ। লিগপর্বে জার্মান ক্লাবটিকে তারা ৭-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল।
স্প্যানিশ তারকা পুতেয়াসের জন্য ম্যাচটি ছিল মাইলফলকের, ৫০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি বার্সেলোনার ২৩০তম গোলটি করলেন। ওমেন্স ক্লাসিকোয় জয় আদায়ের পাশাপাশি রিয়ালকে তিক্ত রেকর্ডের স্বাদও দিলো বার্সা। মাদ্রিদের ক্লাবটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টারে এবার দুই লেগেই সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের স্বাদ পেয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্প ন্যু ২০২৩ সালের পর গতকাল নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির (৬০০৬৭) সাক্ষী হলো। ২০২৩ সালে বার্সা-চেলসি ম্যাচে যেখানে হাজির ছিলেন ৭২২৬২ দর্শক।
পুতেয়াস প্রথম স্প্যানিশ ফুটবলার হিসেবে মেয়েদের এই সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ৩০ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা ৬। সমান ৭টি করে গোল রয়েছে পুতেয়াসের সতীর্থ পাজোর ও বায়ার্নের পার্নিলি হার্ডারের। ৮ গোল নিয়ে সবার শীর্ষে আর্সেনাল তারকা অ্যালেসিয়া রুসো।
মন্তব্য করুন