
চলতি আইপিএল ২০২৬ শুরুর আগেই নানা বিতর্ক ও ইনজুরির কারণে আলোচনায় ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সেও হতাশ করেছে দলটি। টানা দুই ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্টের শুরুটাই কঠিন করে তুলেছে তারা।
বৃহস্পতিবার, ইডেন গার্ডেনে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ৬৫ রানে বড় ব্যবধানে হারে কলকাতা। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১২ সালের পর এবারই প্রথম আসরের প্রথম দুই ম্যাচেই পরাজিত হলো দলটি।
অজিঙ্কা রাহানে নেতৃত্বাধীন দলটি আগের ম্যাচ হেরেছিল মুম্বাইয়েল ওয়ানখেড়েতে। এবার ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেনে ফিরেও ভাগ্য বদলায়নি। আগে ব্যাট করতে নেমে ইশান কিষাণের নেতৃত্বাধীন হায়দরাবাদ ৮ উইকেটে ২২৬ রান তোলে। রান তাড়ায় নেমে কলকাতা মাত্র ১৬ ওভারেই ১৬১ রানে গুটিয়ে যায়। অথচ তাদের শুরুটা হয়েছিল ঝড়ের বেগে।
এদিকে, টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে হায়দরবাদকে বিধ্বংসী শুরু এনে দেন দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা। মাত্র ৪.১ ওভারেই তারা দলীয় ফিফটি পেয়ে যায়। ৫.৪ বলে ৮২ রান তোলার পরই ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা হেড। ২১ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৬ রান করেন তিনি। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক কিষাণ (৯ বলে ১৪)। পরপরই আউট অভিষেকও। এর আগে তিনি ২১ বলে ৪টি করে চার-ছক্কায় ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন। হায়দরাবাদকে বড় পুঁজির পথে টেনে নিয়েছেন হেইনরিখ ক্লাসেন ও নীতিশ কুমার রেড্ডি।
রেড্ডির বিদায়ে ভাঙে ৮২ রানের জুটি। ২৪ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৩৯ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটিং অলরাউন্ডার। ক্লাসেন ৩৫ বলে ৫২ রান করেন ৪ চার ও এক ছক্কায়। হায়দরাবাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২২৬ রান। বিপরীতে কলকাতার পক্ষে ব্লেসিং মুজারাবানি সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার করেছেন। যদিও তিনি খরচ করেন ৪১ রান। এ ছাড়া বৈভব অরোরা ২ উইকেট নেন। ২ ওভারে ৩১ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন বরুণ চক্রবর্তী।
লক্ষ্য তাড়ায় কলকাতাও উড়ন্ত শুরু পেয়েছিল। ফিন অ্যালেনের ব্যাটিং ঝড়ে মাত্র ৩.২ ওভারে তারা ৫০ রান তোলে। যা আইপিএলে দলটির দ্রুততম দলীয় ফিফটি। অ্যালেন এক ওভারে ২৪ রান তুললেও, বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৭ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ২৮ রান। অজিঙ্কা রাহানে ৮ রান করে ফিরতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে কলকাতা। মাঝে অংক্রিশ রঘুবংশী ২৯ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৫২ রান করার পর ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটে কাটা পড়েন। এ ছাড়া রিংকু সিং ৩৫ রানে ফেরার পর আর কেউই পথ দেখাতে পারেনি কলকাতাকে।
৪ ওভার বাকি থাকতেই ১৬১ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকদের ইনিংস। হায়দরাবাদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন জয়দেব উনাদকাট। এ ছাড়া নীতিশ রেড্ডি ও এহসান মালিঙ্গা দুটি করে শিকার ধরেন।
মন্তব্য করুন