
দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। বুধবার (১ এপ্রিল) গুয়াদালাহারা-তে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে জ্যামাইকা-কে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে মধ্য আফ্রিকার এই দলটি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ১০০তম মিনিটে ডিফেন্ডার এক্সেল টোয়ানজেবি-র করা একমাত্র গোলই নিশ্চিত করে কঙ্গোর জয়। এই গোলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে এবং বিশ্বমঞ্চে ফেরার টিকিট পায় দলটি।
পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও জ্যামাইকার শক্ত রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয়েছে কঙ্গোকে। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হচ্ছিল দলটি। তবে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে বার্নলির ডিফেন্ডার এক্সেল টোয়ানজেবি ডেডলক ভেঙে সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার একটা সময় ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেললেও পরবর্তীতে নিজের জন্মভূমি ডিআর কঙ্গোকে বেছে নেন। তাঁর এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যকার ব্যবধান গড়ে দেয় এবং জ্যামাইকার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেয়।
ডিআর কঙ্গোর ফুটবল ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নাম লেখানোর ঘটনা। এর আগে তারা যখন ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিল, তখন দেশটির নাম ছিল ‘জাইরে’। দীর্ঘ ৫২ বছরের এই বিরতি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ প্রতীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্লে-অফ এই জয়ের পর কঙ্গোর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জ্যামাইকা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও কঙ্গোর জমাট রক্ষণভাগ তাদের সব প্রচেষ্টাই নস্যাৎ করে দেয়।
২০২৬ বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর এই অন্তর্ভুক্তি মূলত আফ্রিকান ফুটবলের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ। এই জয় কেবল মাঠের সাফল্য নয়, বরং পুরো জাতির জন্য এক গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েক হাজার কঙ্গোলিজ সমর্থক টোয়ানজেবির গোলটিকে উৎসবের আমেজে উদ্যাপন করেন। এখন বিশ্বের ৩টি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিতব্য এই মেগা ইভেন্টে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করাই হবে মধ্য আফ্রিকার দলটির প্রধান লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন