
কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত ভঙ্গ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে পাকিস্তানের তারকা পেসার নাসিম শাহকে ২ কোটি রুপি জরিমানা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। একই সঙ্গে বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির কঠোর অবস্থানের মুখে এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজের সোশ্যাল মিডিয়া উপদেষ্টাকে বরখাস্ত করেছেন। পিসিবি ওই উপদেষ্টাকে স্থায়ীভাবে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে তিনি কাজ করতে না পারেন।
ঘটনার সূত্রপাত এইচবিএল পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানের পর নাসিম শাহ তার ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “লর্ডসে আমাকে রানীর মতো সম্মান দেওয়া হচ্ছে কেন?”—এই মন্তব্যটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। পরে পোস্টটি মুছে ফেললেও ততক্ষণে তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
নাসিম শাহ দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। তবে পিসিবির তদন্তে এই দাবি গ্রহণযোগ্য হয়নি।
পিসিবি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জানিয়েছিল, তার এই কর্মকাণ্ড মিডিয়া পলিসি ও কেন্দ্রীয় চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটি মনে করছে, নাসিম শাহ পেশাদারিত্ব ও ক্রিকেটীয় অখণ্ডতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। পিসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, খেলোয়াড়দের আচরণবিধি এবং পেশাদার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে তারা বদ্ধপরিকর এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এবারের পিএসএল এমনিতেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর মাঠের পারফরম্যান্সেও নাসিমের সময়টা ভালো কাটছে না। পেশোয়ার জালমির বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ৫১ রান দিয়েও কোনো উইকেট পাননি তিনি। দেশের হয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১৫২ উইকেটের মালিক এই ফাস্ট বোলারের ক্যারিয়ারে এমন বিশাল অংকের জরিমানা এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি কড়া সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন