
প্রথম বলেই আউট হতে পারতেন সুরিয়াভানশি। কিন্তু ক্যাচ ফেলে দিলেন ফিল্ডার। জীবন পেয়ে পরের বলটিই ছক্কায় ওড়ালেন। ভারতের বিস্ময় বালক আইপিএলের নতুন আসর শুরু করলেন ঝড়ো ইনিংস খেলে।
চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৭ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলেছেন সুরিয়াভানশি। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চারে গড়া তার ইনিংসটি।
তিন দিন আগে ১৫ বছর পূর্ণ করা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিফটি পূর্ণ করেন ১৫ বলে। আইপিএলে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি এটি।
ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে তার চেয়ে কম বলে ফিফটি আছে শুধু চার জনের- রোমারিও শেফার্ড (১৪), প্যাট কামিন্স (১৪), লোকেশ রাহুল (১৪) ও ইয়াশাসভি জয়সওয়াল (১৩)।
গুয়াহাটিতে সোমবার রান তাড়ায় প্রথম ওভারে ম্যাট হেনরির শর্ট বল পুল করার চেষ্টায় ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি সুরিয়াভানশি। বল উঠে যায় আকাশে। মিডউইকেট থেকে অনেকটা পেছনে দৌড়ে বল মুঠোয় জমাতে ব্যর্থ হন কার্তিক শার্মা। তার হাত ফসকে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে।
পরের বল পুল করে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান সুরিয়াভানশি। নিউ জিল্যান্ডের পেসার হেনরির পরের ওভারে আরেকটি চমৎকার ছক্কা মারেন তিনি। পঞ্চম ওভারে আনশুল কাম্বোজের চার বলের মধ্যে মারেন দুটি চার ও একটি ছক্কা।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে স্পিনার নুর আহমাদকে পরপর দুই ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করে ফেলেন তিনি। পরের ওভারে কাম্বোজের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে সপাটে ব্যাট চালিয়ে ডিপ এক্সট্রা কাভারে ধরা পড়ে শেষ হয় তার ঝড়ো ইনিংসটি।
গত আইপিএলের নিলামে ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে দল পেয়ে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন সুরিয়াভানশি। কিন্তু সত্যিকারের ঝড় তোলেন তিনি খেলতে নেমে। অভিষেকে ২০ বলে ৩৪ রানের ইনিংসের পর, তৃতীয় ম্যাচে উপহার দেন ৩৫ বলে সেঞ্চুরি। আইপিএলে যা দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি, ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্রুততম। প্রথম আইপিএল অভিযানে সাত ইনিংসে ২৫২ করেন তিনি ২০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে।
পরে ভারতীয় ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়েও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রেকর্ডের বন্যা বয়ে যায় তার ব্যাটে। বিহারের হয়ে রাঞ্জি ট্রফি, ভিজায় হাজারে ট্রফিতেও ছড়ান আলো।
এবার আইপিএলের ১৯তম আসরের শুরুটাও দারুণ করলেন তিনি। তার দল আসর শুরু করল ৮ উইকেটের বড় জয় দিয়ে।
সুরিয়াভানশির ফিফটির পর, জয়সওয়ালের অপরাজিত ৩৮ রানের ইনিংসে ৪৭ বল হাতে রেখেই ছোট লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে রাজস্থান।
মন্তব্য করুন