
আসন্ন পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে বাংলাদেশ দলের বড় পরিবর্তন আসছে। সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস এবার ওপেনিং নয়, মিডল অর্ডারে খেলবেন।
লিটনের পাঁচটি ওডিআই সেঞ্চুরি সবই ওপেনিং থেকে এসেছে, কিন্তু সালাহউদ্দিন মনে করছেন, এই মুহূর্তে মিডল অর্ডারে একটি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের শূন্যতা আছে। “দল ব্যক্তির চেয়ে বড়। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর অবসরের পর মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন,” তিনি ক্রিকবাজকে বলেছেন।
সিরিজের প্রস্তুতিতে লিটন বিসিএল অল স্টারস একাদশের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করেছেন। কোচের মতে, টেস্টে লিটন সাধারণত ছয় নম্বরে ব্যাট করেন এবং মিডল অর্ডারে তার সক্ষমতা প্রমাণিত। এই অভিজ্ঞতা সিরিজে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
লিটনের কুমারের এই নতুন ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ক্রিকবাজকে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি মনে করি দল ব্যক্তির চেয়ে বড়। এটা সত্য যে তিনি তার ওডিআই ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় শীর্ষে ব্যাট করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা মনে করি না যে মিডল অর্ডারে সফল হওয়ার যা লাগে তা তার নেই।’
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এই মুহূর্তে মিডল অর্ডারে একটি শূন্যতা আছে। মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা অবসর নেওয়ার ফলে সেই শূন্য জায়গা পূরণে আমাদের আরেকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় প্রয়োজন। সে কারণেই লিটনকে মিডল অর্ডারে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, টেস্ট ক্রিকেটে লিটন সাধারণত ছয় নম্বরে ব্যাট করেন এবং সেখানে তিনি মিডল অর্ডারে খেলার সক্ষমতা আগেই দেখিয়েছেন। কোচ বলেন, ‘মিডল অর্ডারে লিটনের অভিজ্ঞতা এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তার টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ড দেখলে বোঝা যায় এটা অসাধারণ। সেখানে তিনি ছয়ে ব্যাট করেন, কখনো পাঁচ বা ছয়ে।’
গত জুলাই থেকে লিটন বাংলাদেশের ওডিআই পরিকল্পনার বাইরে ছিলেন। এই সময়ে তিনি মাত্র তিনটি লিস্ট 'এ' ম্যাচ খেলেছেন, সবকটি সদ্য শেষ হওয়া বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে। সেখানে তিনি যথাক্রমে ১০, ৫৫ ও ০ রান করেছেন।
তবে ছোট ফরম্যাটে লিটন সক্রিয় ছিলেন। এই সময়ে ৩০টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ২৫.৭৭ গড়ে ও ১৩০.৫৮ স্ট্রাইক রেটে ৬৯৬ রান করেছেন। পাঁচটি অর্ধশতকও করেছেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘লিটন দুটি ফরম্যাটে ভালো করেছেন, কেবল সাম্প্রতিক সময়ে ওডিআইয়ে কষ্ট পেয়েছেন। আশা করি সিরিজে মিডল অর্ডারে মানিয়ে নিলে তার অভিজ্ঞতা দলকে সাহায্য করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৯ বিশ্বকাপের কথা মনে থাকলে দেখবেন তিনি মিডল অর্ডারে ব্যাট করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ছয় নম্বরে ব্যাট করে ৯০-এর কাছাকাছি রান করেছিলেন। তাই তিনি বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করতে পারেন এবং এর বড় কারণ হলো বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা তার আছে।’
এদিকে, পনেরো সদস্যের পাকিস্তান দল রোববার ঢাকায় পৌঁছেছে। তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন