
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মাঠে নামছে নিউজিল্যান্ড। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেছেন, আমরা নিজেদের ফেভারিট মনে করি না। তবে এবার অন্তত একবার প্রতিপক্ষের হৃদয় ভেঙে শিরোপা জিততে চাই।
ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম-এ, যেখানে প্রায় এক লাখ দর্শক এবং কোটি কোটি টেলিভিশন দর্শক উপস্থিত থাকবেন। অধিকাংশ দর্শক স্বাগতিক ভারতের সমর্থক, যা ভারতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। স্যান্টনার বলেন, ভারতের ওপর চাপ রয়েছে। আমরা সেই চাপকে কাজে লাগাতে চাই।
গত ১১ বছরে এটি নিউজিল্যান্ডের পঞ্চম সাদা বলের (ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি) বিশ্বকাপ ফাইনাল। তবে এখনো তারা পুরুষদের কোনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। সংবাদ সম্মেলনে স্যান্টনার বলেন, আমরা সাধারণত কারও হৃদয় ভাঙি না। কিন্তু এবার যদি ট্রফি জিততে পারি, তাহলে কয়েকটি হৃদয় ভাঙলেও আপত্তি নেই।
ফাইনাল ম্যাচে প্রায় এক লাখ দর্শক মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেন এবং টেলিভিশনের সামনে থাকবেন আরও কোটি কোটি দর্শক। তাদের বেশির ভাগই স্বাগতিক ভারতের সমর্থক। এ কারণে ভারতের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে বলে মনে করেন স্যান্টনার।
তিনি বলেন, ভারতের ওপর বাড়তি চাপ আছে, কারণ তারা নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে চায়। আমরা সেই চাপকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।
নিউজিল্যান্ডের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে ২০২৩ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল। একই মাঠে সেবার স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচে ভারতের ওপর প্রত্যাশার চাপ ছিল স্পষ্ট। ব্যাটিংয়ে ধীরগতির কারণে তারা বড় স্কোর গড়তে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত হেরে যায়। নিউজিল্যান্ড চাইছে সেই পরিস্থিতি আবার তৈরি করতে।
নিউজিল্যান্ড জানে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ থামানো সহজ নয়। স্যান্টনার বলেন, যেকোনো শক্তিশালী দলকে থামানোর একমাত্র উপায় হলো শুরুতেই উইকেট নেওয়া। এরপর মাঝের ওভারগুলোতে চাপ তৈরি করতে হবে।
এই বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে দুইশর বেশি রান তাড়া করা বা করা বেশ সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য থাকবে ভারতের স্কোর ২২০–এর আশেপাশে আটকে রাখা।নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অফ স্পিনার কোল ম্যাককনচি এবং অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস। এই বিশ্বকাপে অফ স্পিনের বিপক্ষে ভারতের ব্যাটাররা তুলনামূলক কম সফল।
ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় অফ স্পিনাররা সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের বড় শক্তি তাদের ওপেনিং জুটি। ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের এই জুটি এবারের বিশ্বকাপে সাত ইনিংসে ৪৬৩ রান করেছে এবং দুটি শতরানের জুটি গড়েছে।
সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসেন অ্যালেন। ফাইনালেও তাদের ওপর বড় আশা রাখছে কিউইরা। সব মিলিয়ে আহমেদাবাদের ফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, স্বাগতিক ভারতের আধিপত্য বজায় থাকে, নাকি নিউজিল্যান্ড সত্যিই এবার প্রতিপক্ষের হৃদয় ভেঙে ইতিহাস গড়ে।
মন্তব্য করুন