
মুম্বাইয়ে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মনোমুগ্ধকর হলেও, এ বছর বিশ্বকাপের বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা চোখে পড়ে। বলিউডের ডান্স কুইন নোরা ফাতেহি এবং র্যাপার বাদশা-এর নাচের ঝলকে স্টেডিয়াম উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আলোর ঝলকানি আর নাচের মঞ্চ কাঁপিয়ে বিশ্বকাপের দশম আসরের সুর বাজল।
তবে এই বিতর্কিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নানা কারণে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চলমান দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ভিসা জটিলতা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই টুর্নামেন্টকে স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন করেছে।
আইসিসির সভাপতি জয় শাহ এবং ২০২৪ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক ট্রফি হাতে মাঠে প্রবেশ করেন। উদ্বোধনী ম্যাচে ভারত বনাম যুক্তরাষ্ট্র মাঠে নেমে স্বাগতিক ভারতীয় দর্শকদের উৎসাহ বেড়েছে।
মূল উদ্বোধণী অনুষ্ঠান ওয়াংখেড়েওত হলেও প্রথম দিনে মাঠে গড়িয়েছে তিনটি ম্যাচ। কলম্বোতে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডের ম্যাচ গড়িয়েছে। যেখানে ডাচদের হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। এ ছাড়াও দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে 'সি' গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ড। ম্যাচটিতে স্কটিশদের ৩৫ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এবারের আসরে বাংলাদেশ না থাকায় টুর্নামেন্টে ডাক পায় স্কটল্যান্ড। তবে দর্শকদের ম্যাচটি নিয়ে ছিল না তেমন কোনো আগ্রহ। ইডেন গার্ডেন্সে দর্শকধারণ ক্ষমতা ৬৫ হাজার। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ডের খেলায় ছিল না ৩ হাজার দর্শকও। স্টেডিয়ামের বাইরে ছিল না বিশ্বকাপের আমেজ। স্কটল্যান্ডের জায়গা বাংলাদেশ থাকলে গল্পটা ভিন্ন হতে পারত। এর আগে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কলকাতায় একাধিক ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। সে সময় গ্যালারিতে ছিল চোখে পড়ার মতো দর্শক-সমর্থক।
কলম্বোতে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচেও ছিল একই চিত্র। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডের দর্শকধারণ ক্ষমতা মাত্র ১০ হাজার। তবুও গ্যালারির সিংহভাগ আসনই ছিল ফাঁকা। মাঠে দর্শক টানতে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডের ম্যাচ ফ্রিতে খেলা দেখানোর ঘোষণা নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। মাঠে ছিল না তেমন দর্শক।
এবারের আসরে পাঁচ গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে ২০টি দল। যার মধ্যে ১১টি আইসিসির পূর্ণ সদস্যের দল এবং ৯টি আইসিসির সহযোগী সদস্য। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ বাদ দিলে টুর্নামেন্টে থাকে ৪৪টি ম্যাচ। দর্শকদের মাঠে টানতে দরকার হাইভোল্টেজ ম্যাচ। ২০ দলের লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের খেলাগুলোতে চার ভাগের তিন ভাগ ম্যাচের ফলাফল আগে থেকে আঁচ করা যাচ্ছে, যদি না কোনো অঘটন ঘটে। ফলে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে তেমন আগ্রহ নেই সমর্থকদের।
এছাড়াও টুর্নামেন্টে দর্শক খরার আরো একটি কারণ, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ! প্রতিবেশী দেশগুলোদের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্ক খুব একটা ভালো না হওয়ায় মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে আগ্রহী দর্শকদের পড়তে হয় ভিসা জটিলতায়। এই তালিকায় বাদ যান না ক্রিকেটারাও।
মন্তব্য করুন