
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান নেদারল্যান্ডসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে জয় দিয়ে শুরু করেছে, যদিও জয়টা মোটেও সহজ ছিল না।
নেদারল্যান্ডস প্রথমে ব্যাট করে ১৪৭ রানে অলআউট হয়। পাকিস্তানের বোলাররা দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতে ভালোই করেছিল। ১০ ওভারের শেষে ২ উইকেটে ৯০ রান তুলে দলকে আশা জাগায়। সাহিবজাদা ফারহান ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন।
কিন্তু এরপর মাঝের ওভারগুলোতে দ্রুত উইকেট পড়তে শুরু করে। ১৬.১ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১১৪, এবং তখন জয়ের সম্ভাবনা সংকটাপন্ন মনে হচ্ছিল।
এই চাপের মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন বাবর আজম। তিনি ১৮ বলে মাত্র ১৫ রান করে আউট হন (১ চার)। কোনো ছক্কা মারতে পারেননি। দল যখন দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারান, যা দলকে আরও বিপদে ফেলে দেয়।
ম্যাচের ধারাভাষ্যে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ বাবরের ব্যাটিং নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ছক্কা মারা বাবরের শক্তির জায়গা নয়। তার খেলার ধরনই ছক্কা মারার জন্য নয়। সে সিঙ্গেল-ডাবলস নিয়ে, বলপ্রতি এক রানের গতিতে খেলে দলকে জিতিয়ে দেয়। যতবারই সে বড় শট খেলতে যায়, ততবারই উইকেট হারায়।” কাইফের এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং বাবরের টি-টোয়েন্টি স্ট্রাইকরেট নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়।
তবে ম্যাচ বাঁচিয়ে দেন ফাহিম আশরাফ। নম্বর আটে নেমে তিনি ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন (২ চার, ৩ ছক্কা)। ১৯তম ওভারে লোগান ভ্যান বিকের বলে ২৪ রান তোলেন, যার মধ্যে একবার ক্যাচ ছেড়ে দেন ম্যাক্স ও'ডাউড। এই ভুলের খেসারত দিতে হয় নেদারল্যান্ডসকে। ফাহিমের ঝড়ো ইনিংসেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এবং পাকিস্তান শেষ ৩ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয়।
এই জয় পাকিস্তানের জন্য দুই পয়েন্ট এনে দিলেও বাবরের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টি-টোয়েন্টির দ্রুতগতির ক্রিকেটে তার অ্যাডাপটেশন নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত থাকবে বলে মনে হচ্ছে। তবে ফাহিমের বীরত্বে দল শেষ পর্যন্ত হাসি মুখে মাঠ ছাড়তে পেরেছে।
মন্তব্য করুন