
সাতক্ষীরাকে পর্যদুস্ত করে ইয়াং টাইগার অনূর্ধ্ব-১৪ খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে। শনিবার খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে সাতক্ষীরাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় আগামীর সৈয়দ রাসেল তুষার ইমরানরা। গত সপ্তাহে শেষ হওয়া অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটেও সাতক্ষীরাকে হারিয়ে খুলনা বিভাগীয় শিরোপা জিতেছিল যশোর। বড় ভাইদের দেখানো সেই পথ ধরেই এবার সাফল্যের মুকুট পরলো ছোটরাও।
এর আগে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো একই মৌসুমে দুই শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল যশোর। অপরদিকে অতি সম্প্রতি ২০১৭-১৮ ও ২০২৩-২৪ মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেয়েছিল যশোর অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট দল।
শনিবার সকালে টসের ভাগ্য যশোরের পক্ষে না থাকলেও মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল শুরু থেকেই তাদের হাতে। প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নেমে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সাতক্ষীরাকে দাঁড়াতেই দেয়নি যশোর। এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়া, অন্য প্রান্তে রান চেপে ধরার কৌশলে সাতক্ষীরার ইনিংস থামে মাত্র ৬৬ রানে।
সহজ লক্ষ্য হলেও ক্রিকেটে তাড়াহুড়োর ফাঁদ থাকে। সে ফাঁদে পা না দিয়েই সাবলীল যাত্রা শুরু করে যশোর। ওপেনার আবু বক্কর ও সাববিন ওহি ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ক্রিকেটে গড়ে তোলেন ৬০ রানের ভিত। জয়ের খুব কাছাকাছি এসে এক রান ও তিন বলের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে মুহূর্তের জন্য নড়ে যায় ড্রেসিংরুম। তবে ভয় নয়, আসে ধৈর্য। সতর্ক ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ ডেকে আনেনি যশোরের কিশোররা। ২০ ওভারের প্রথম বলেই জয়ের শেষ রানটি তুলে নেয় আজিমুল হকের শিষ্যরা।
যশোরের ব্যাট হাতে সাববিন ওহি ৭০ বলে ৭টি চারে অপরাজিত ৩৭ রান করেন। এর পাশে আবু বক্কর ১১ রান করেন। বল হাতে সাতক্ষীরার সাকিন মুস্তাক ১২ রানে দুই উইকেট দখল করেন।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আত্মবিশ্বাসী শুরু পায় সাতক্ষীরা। ৫ ওভার ২ বল স্থায়ী ওপেনিং জুটিতে আসে ২৮ রান। তবে ওই ২৮ রানেই দ্বিতীয় উইকেট তুলে নিয়ে সাতক্ষীরার কফিনে পেরেক ঠোঁকা শুরু করে যশোর। তৃতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা ১৯ রানের বেশি স্থায়ী হতে দেননি যশোর অধিনায়ক আল জান্নাত জিহাদ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সাতক্ষীরা। যশোরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে না পেরে ২৬ ওভার ১ বলেই ৬৬ রানে গুটিয়ে যায় তাদের দলীয় ইনিংস।
বল হাতে যশোরের অধিনায়ক আল জান্নাত জিহাদ ছিলেন দুর্বার। ৬ ওভার ১ বলে ৩টি মেডেনসহ মাত্র ৬ রান খরচ করে তুলে নেন ৫টি উইকেট। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন তৌকি আহনাফ ৭ ওভারে ৩টি মেডেনসহ ১৪ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া আবু হানি জাদিদ ও শান নূর তমাল একটি করে উইকেট শিকার করেন। অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন আল জান্নাত জিহাদ।
মন্তব্য করুন