
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ পরিকল্পনা ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ইউরোপজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ডেকে এনেছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে, যার অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থান থেকেই তিনি গ্রিনল্যান্ড কেনা কিংবা অন্য কোনোভাবে দখলের ধারণা সামনে এনেছেন। তবে ডেনমার্কসহ ইউরোপের একাধিক দেশ এর তীব্র বিরোধিতা করে।
বিরোধিতার জবাবে ট্রাম্প ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এমনকি শুরুতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, একটি সম্ভাব্য ‘ভবিষ্যৎ চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি হয়েছে এবং আপাতত শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির কয়েকজন সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতা—যাদের মধ্যে জার্গেন হার্ডট অন্যতম—মত দিয়েছেন, ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চাপ অব্যাহত রাখেন বা শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত। তাদের মতে, এটি হবে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির ‘শেষ কূটনৈতিক অস্ত্র’।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে, যেখানে মাত্র ৩৫ শতাংশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন। বাকি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। এই জনমতের চাপেই জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি)-এর ওপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে মোট ম্যাচের বেশিরভাগ—প্রায় ৭৮টি ম্যাচ—অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি যদি বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশও একই পথে হাঁটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশেষ করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে।
বর্তমানে জার্মানি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বয়কটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার ওপর।
মন্তব্য করুন