
আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের (আফকন) শিরোপা জিতে আবারও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল সেনেগাল। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, ভিএআর নাটক, মাঠ ছাড়ার হুমকি ও অতিরিক্ত সময়ের রুদ্ধশ্বাস লড়াই—সব মিলিয়ে মরক্কোর বিপক্ষে এক ঐতিহাসিক ও নাটকীয় ফাইনালের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।
রোববার মরক্কোর রাজধানী রাবাতের প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে সেনেগাল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ম্যাচের একমাত্র ও নির্ধারক গোলটি করেন পাপে গেই।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বার আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতল সেনেগাল। এর আগে ২০২২ সালে মিশরকে হারিয়ে প্রথমবার আফকনের শিরোপা জয় করেছিল সাদিও মানের দল। অন্যদিকে, মরক্কোর দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়ল। ১৯৭৬ সালের পর এখনো আফ্রিকার সর্বোচ্চ ফুটবল ট্রফির স্বাদ পায়নি তারা।
ম্যাচের শেষ দিকে মরক্কোর পাওয়া একটি পেনাল্টি নিয়ে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পর কঙ্গোর রেফারি জ্যঁ-জ্যাক এনডালা সিদ্ধান্ত দেন যে কর্নার প্রতিহত করতে গিয়ে সেনেগালের ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফ মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজকে টান দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা কোচের নির্দেশে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যান। দীর্ঘ প্রায় ১৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। পরে অধিনায়ক সাদিও মানের অনুরোধে তারা আবার মাঠে ফেরেন। এ সময় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।
পেনাল্টি নিতে এসে ব্রাহিম দিয়াজ নেন প্যানেনকা শট। তবে তার দুর্বল শট সহজেই ধরে ফেলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি। এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে স্বাগতিকরা।
এরপর অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে ইদ্রিসা গানা গেই সাদিও মানেকে পাস দেন। মানে সেখান থেকে বল বাড়ান পাপে গেইয়ের দিকে। ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে পেছনে ফেলে দুর্দান্ত শটে গোল করেন। বল গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর হাত ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে যায়।
গোলের পর স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। ৬৬ হাজারের বেশি দর্শক হতাশায় ডুবে যান।
গোল শোধে মরক্কো মরিয়া চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় ভাগে নাইয়েফ আগুয়ের্দের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত আর সমতা ফেরাতে পারেনি স্বাগতিকরা।
এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় যোগ করা মিনিটে সেনেগালের একটি গোল বাতিল হয়। কর্নার থেকে আবদুলায়ে সেকের হেড পোস্টে লেগে ফিরলে ইসমাইলা সারে বল জালে পাঠান। তবে রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন, যা নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিল সেনেগাল শিবির।
ম্যাচের শেষ দিকে শেরিফ এনদিয়ায়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে সেনেগাল। গত তিন আসরের মধ্যে এটি সেনেগালের দ্বিতীয় আফকন শিরোপা—যা আফ্রিকান ফুটবলে তাদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল।
মন্তব্য করুন