
ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ আয়ারল্যান্ডের গ্রুপপর্বের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে, বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড গ্রুপ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার যে খবর প্রকাশ হয়েছিল, সেটিও পুরোপুরি নাকচ হলো।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে দাবি করেছিল, ভারতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, “আমরা নিশ্চিতভাবে জানি—মূল সূচি পরিবর্তিত হবে না। আমাদের সব গ্রুপ ম্যাচই শ্রীলঙ্কাতেই হবে।”
ড্র অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ড গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও ওমানের সঙ্গে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নেপাল ও ইতালির সঙ্গে। বাংলাদেশের গ্রুপ ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার ঢাকায় আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি গ্রুপ পরিবর্তনের ধারণা উপস্থাপন করেছিল। বিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি সহজ করতে বাংলাদেশকে ভিন্ন গ্রুপে নেওয়ার সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে।”
তবে আইসিসি বা ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড উভয়ই এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেনি। বৈঠকে আইসিসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গৌরব শাক্সেনা (জেনারেল ম্যানেজার, ইভেন্টস ও করপোরেট কমিউনিকেশন) এবং অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ (জেনারেল ম্যানেজার, ইন্টেগ্রিটি ইউনিট)। শাক্সেনা পরে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন, আর এফগ্রেভ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
বিসিবি প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।
বিসিবি নিশ্চিত করেছে, গ্রুপ পরিবর্তনের বিষয়টি কেবল বিশ্বকাপ ২০২৬–এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা এর অংশ ছিল। এছাড়া, খেলোয়াড়, সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের উদ্বেগও আইসিসিকে জানানো হয়েছে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কলকাতাতেই। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।
বিসিবি জানিয়েছে, ভারতে খেলতে না যাওয়ার পেছনে মূলত খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রধান ভূমিকা রাখছে। আইপিএলে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
তবে বিসিবি জানিয়েছে, আইসিসির সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ ছিল গঠনমূলক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার, এবং দুই পক্ষই সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত।
উল্লেখ্য, আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায়।
মন্তব্য করুন