
আরও একবার প্রতিপক্ষ ভারত, আরেকবার তীরে এসে তরী ডুবল বাংলাদেশের। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ১৮ রানে হেরে বসেছে টাইগার যুবারা। আল ফাহাদের দুর্দান্ত ফাইফার ও অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিমের দায়িত্বশীল অর্ধশতকও শেষ পর্যন্ত হার ঠেকাতে পারল না।
জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে চাপে পড়ে ভারত। নির্ধারিত ৫০ ওভারের ম্যাচ ৪৯ ওভারে সীমাবদ্ধ থাকলেও ভারত সংগ্রহ করতে পারে ২৩৮ রান।
বাংলাদেশের হয়ে শুরুটা রীতিমতো উৎসবের করে দেন আল ফাহাদ। ভারত অধিনায়ক আয়ুশ মাহাত্রেকে কালাম সিদ্দিকির হাতে ক্যাচ বানানোর পর পরের বলেই বেদান্ত ত্রিবেদীকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। ১২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় ভারত।
এরপর বৈভব সূর্যবংশী একাই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। মাত্র ৩০ বলে ফিফটি করে ম্যাচে উত্তাপ ছড়ান তিনি। তবে অধিনায়ক তামিমের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং পরিবর্তনে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ ফেরে বাংলাদেশের হাতে। ৬৭ বলে ৭২ রান করা বৈভব ইকবাল হোসেন ইমনের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আল ফাহাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
মাঝে বিহান মালহোত্রার উইকেট নিজেই তুলে নেন তামিম। এরপর ১১৯ রানে ৫ উইকেট হারানো ভারত অভিজ্ঞান কুণ্ডু ও কনিষ্ক চৌহানের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও বড় জুটি গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২৩৮ রানেই থামে ভারতের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে ৯.২ ওভারে মাত্র ৩৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংসসেরা বোলিং করেন আল ফাহাদ। এছাড়া ইকবাল হোসেন ইমন ও আজিজুল হাকিম তামিম পান দুটি করে উইকেট, আর একটি উইকেট নেন শেখ পারভেজ জীবন।
২৩৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই জাওয়াদ আবরারকে হারায়। তবে রিফাত বেগ ও অধিনায়ক তামিমের ব্যাটে ইনিংসের ভিত গড়ে ওঠে। রিফাত ৩৭ বলে ৩৭ রান করে ফিরলেও তামিম দৃঢ়তা ধরে রাখেন।
১৮তম ওভারে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকে ৬৪ মিনিট। খেলা পুনরায় শুরু হলে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫ রান।
কিন্তু লক্ষ্য তাড়ায় শেষদিকে খেই হারায় টাইগার যুবারা। অধিনায়ক তামিম ৭২ বলে ৫১ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও অপর প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২৮.৩ ওভারে মাত্র ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ভারতের হয়ে বিধ্বংসী বোলিং করে ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন বিহান মালহোত্রা। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য তিনিই ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।
মন্তব্য করুন