
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, যা যৌথভাবে আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ২০ দলের এই বৈশ্বিক আসর শুরুর আগেই একের পর এক জটিলতায় পড়ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের নিরাপত্তা ইস্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে ভিসা সংকটে পড়েছে ক্রিকেট বিশ্ব।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম জিও স্পোর্টস–এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার থাকায় অন্তত পাঁচটি অংশগ্রহণকারী দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালি, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—ভারতের ভিসা জটিলতার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এই পাঁচ দেশের ক্রিকেট বোর্ড যৌথভাবে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।
ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর প্রভাব নতুন নয়। দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে না পারায় আইসিসিকে প্রায়ই হাইব্রিড মডেলে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হচ্ছে। এতদিন এই সংকট মূলত পাকিস্তানকেন্দ্রিক থাকলেও, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে।
বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিতে যাওয়া ইতালি সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছে। ইউরোপের এই দেশটিতে ক্রিকেট মূলত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়েছে। তাদের জাতীয় দলে রয়েছে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটার, যার মধ্যে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ও রয়েছেন। আর এই বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে ভারতের ভিসা নীতিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।
একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দলেও। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র এক মাস বাকি থাকলেও এখনো পর্যন্ত এই পাঁচ দেশের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভিসা নিয়ে কোনো ইতিবাচক সংকেত দেয়নি ভারত।
এই প্রেক্ষাপটে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি তার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)–এর কাছেও। তবে একাধিক কার্যদিবস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিসিসিআই কিংবা আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি।
জিও স্পোর্টসের দাবি অনুযায়ী, সময়ের স্বল্পতা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে তাগাদা দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো পক্ষই সাড়া দিচ্ছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালি, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট বোর্ডগুলো আবারও যৌথভাবে আইসিসি ও বিসিসিআই বরাবর নতুন চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশসহ অন্তত সাতটি দেশের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে জটিলতা তৈরি হয়েছে বিসিসিআইয়ের। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ নয় বলে ক্রিকেট মহলে আলোচনা রয়েছে। তবুও বিশ্ব ক্রিকেট কার্যত ভারতের প্রভাবের মধ্যেই রয়েছে—এমন বাস্তবতা জেনেও আইসিসির নীরবতা প্রশ্ন তুলছে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে।
মন্তব্য করুন