
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্কোরলাইন দেখে সহজ জয় মনে হলেও বাস্তবে বেনিনের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিশরকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ ড্র থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল করে শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় মোহাম্মদ সালাহর দল।
মরক্কোর আগাদিরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বেনিন, যাদের ডাকনাম ‘চিতা’, শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বহু সুযোগ নষ্টের পর ৬৮তম মিনিটে আল আহলি মিডফিল্ডার মারওয়ান আতিয়ার দূরপাল্লার বাঁকানো শটে লিড নেয় মিশর।
তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি মিশর। ৮৪তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস গোলমুখে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি প্রথমে বল ঠেকালেও তা ফিরে যায় জোডেল ডসুর সামনে। খুব কাছ থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান বেনিনের এই ফরোয়ার্ড।
নির্ধারিত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৭তম মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার বাড়ানো বলে দুর্দান্ত ভারসাম্য রেখে হেডে গোল করেন ইয়াসির ইব্রাহিম। এতে আবার এগিয়ে যায় মিশর।
ম্যাচের একেবারে শেষদিকে, ১২৩তম মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ নিজের চিরচেনা দক্ষতায় গোল করে মিশরের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের মাধ্যমে আফ্রিকা কাপের ইতিহাসে মিশরের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে দুই অঙ্কের গোলের মাইলফলকে পৌঁছান সালাহ। আফকনে তার গোল এখন ১০টি। তার ওপরে রয়েছেন হাসান এল শাজলি (১২) ও হোসাম হাসান (১১)।
ম্যাচজুড়ে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধে ওমর মারমুশ ও সালাহ ভালো সুযোগ নষ্ট করেন। অন্যদিকে বেনিনের তোসিন আইয়েগুন ইনজুরিতে মাঠ ছাড়লে দলটি বড় ধাক্কা খায়। মিশরেরও মোহাম্মদ হামদি চোট পেয়ে বিরতির আগে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
এই জয়ের ফলে আফ্রিকার সবচেয়ে সফল দল মিশর গত পাঁচ আসরে তৃতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল। তারা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আগাদিরেই থাকবে এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট ও বুরকিনা ফাসোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে শেষ চারের টিকিটের জন্য লড়াই করবে।
চার বছর আগে ক্যামেরুনে রানার্স-আপ হওয়ার পর এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ফিরল মিশর। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০২ সালের পর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে কখনো বিদায় নেয়নি ‘ফারাওরা’; পাঁচবার ফাইনাল খেলে তিনবার শিরোপা জিতেছে তারা।
মন্তব্য করুন