
২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নেবে মোট ২০টি দল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত তাদের শিরোপা রক্ষার মিশন শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তবে আসন্ন এই জমকালো আয়োজন ঘিরে বড় ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের কিংবদন্তি অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় অশ্বিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেউ দেখবে না। ভারত বনাম যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভারত বনাম নামিবিয়ার মতো ম্যাচগুলো দর্শকদের বিশ্বকাপ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
অশ্বিনের মতে, বিশ্বকাপের আকর্ষণ মূলত তৈরি হতো দীর্ঘ অপেক্ষা ও বড় ম্যাচের উত্তেজনায়। আগে চার বছর পরপর বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ ও রোমাঞ্চ তৈরি হতো। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্টের শুরুতেই ভারত, ইংল্যান্ড বা শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়া ম্যাচগুলো ছিল দর্শকদের জন্য বেশি উপভোগ্য।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এটি হতে যাচ্ছে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যদিও ওয়ানডে বিশ্বকাপ এখনো চার বছরের চক্রেই আয়োজন করা হয়, তবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণ দুই বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর আলাদা গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাচ্ছে।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে অশ্বিন বলেন, ১৯৯৬, ১৯৯৯ কিংবা ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের জন্য আমরা আলাদা করে সূচি সংগ্রহ করতাম, কার্ড জমাতাম। সেই অপেক্ষার উত্তেজনা এখন আর নেই।
২০ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া—এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অশ্বিন। তবে তার মতে, এতে প্রথম পর্বে একপেশে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে যায়, যা দর্শকদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি ঘন ঘন বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের ফলে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে ‘ক্রিকেট ফ্যাটিগ’।
অশ্বিনের আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও মান—দু’টিই বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন