
শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৪ রান। ম্যাচ তখন পুরোপুরি নোয়াখালীর নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ১৮তম ওভারে হ্যাটট্রিকসহ ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মেহেদি হাসান রানা। সেই ওভারে মাত্র ৫ রান দেন তিনি। পরের ওভারে হাসান আরও কৃপণ বোলিং করে খরচ করেন মাত্র ৬ রান। ফলে শেষ ওভারে জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ১৩ রানে। এক ছক্কা ও এক চারের সাহায্যে সেই সমীকরণ মিলিয়ে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে সিলেট।
সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে নোয়াখালী। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬১ রান করেন অঙ্কন। জবাবে খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সিলেট।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। পাকিস্তানি ওপেনার সায়িম আইয়ুব ডাক খেয়ে ফেরেন। আরেক ওপেনার রনি তালুকদারও ব্যর্থ হন, তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৭ রান। আসরে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া জাকির হোসেন করেন ১৩ রান।
৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানো সিলেটের ইনিংস সামাল দেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমন। ইমন ৪১ বলে দুর্দান্ত ৬০ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। তবে তার বিদায়ের পরপরই সিলেটের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামে।
মিরাজ ৩৭ বলে ৩৩ রান করে ফিরলে চাপ আরও বাড়ে। আফিফ হোসেন ও নাসুম আহমেদ ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচে আবার ফেরার সুযোগ পায় নোয়াখালী। তবে সংকটময় সময়ে ১৩ বলে ১৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে সিলেটের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইথান ব্রুকস।
এর আগে নোয়াখালীর ইনিংস শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে। প্রথম বলেই আমিরের আউটসুইং বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাজ সাদাকাত। আরেক ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহানও দুই বল খেলে খালেদের বলে আউট হন। তিনে নামা পাকিস্তানি ব্যাটার হায়দার আলিও রানের খাতা খুলতে পারেননি। ফলে মাত্র ৯ রানে ৩ উইকেট হারায় নোয়াখালী।
চরম বিপদে দলকে সামাল দেন সৈকত আলি ও সাব্বির হোসেন। সৈকত ২৯ বলে ২৪ রান এবং সাব্বির ১৫ বলে ১৫ রান করেন। এরপর জাকের আলি ও অঙ্কনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় নোয়াখালী। ৬৬ রানের সপ্তম উইকেট জুটি গড়ার পর ২৯ রান করে ফেরেন জাকের।
অঙ্কন তুলে নেন ফিফটি। ৪৬ বলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রান করে নোয়াখালীর সংগ্রহ ১৪৩ রানে নিয়ে যান এই ব্যাটার।
মন্তব্য করুন