
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মাঝেই বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। দলের অন্যতম হার্ডহিটার ব্যাটার টাইম ডেভিড হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ায় ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তার ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে ম্যাচে হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে ব্যাটিং করার সময় এই চোটে পড়েন ২৯ বছর বয়সী ডেভিড। গত শুক্রবার পার্থ স্টেডিয়ামে উইকেটের মাঝে দৌড়ানোর সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করেন তিনি। পরে মেডিকেল স্টাফের পরামর্শে ২৮ বলে ৪২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
যদিও হারিকেন্স শেষ পর্যন্ত চার উইকেটে ম্যাচটি জিতে নেয়, তবে সতীর্থের চোটে হতাশার কথা জানান দলের অধিনায়ক নাথান এলিস। তিনি বলেন, এই ইনজুরি বিশ্বকাপের আগে দলের জন্য উদ্বেগজনক।
চলতি বছরে এটি টাইম ডেভিডের দ্বিতীয় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি। এর আগে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার সময় গুরুতর চোটে পড়ে প্রায় দুই মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। সেই কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টি–টোয়েন্টি সিরিজে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনটিতে খেলতে পেরেছিলেন।
হোবার্ট হারিকেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার ডেভিডের স্ক্যান করা হবে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর তার পুনর্বাসন পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। বিবিএলের সংক্ষিপ্ত মৌসুম শেষ হবে ২৫ জানুয়ারি, ফলে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে দ্রুত ফিট হওয়ার জন্য সময় খুব বেশি নেই তার হাতে।
তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্ট শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি এবং চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত টাইম ডেভিড অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ শিরোপা স্বপ্নের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
ম্যাচ শেষে ডেভিড বলেন, দুই রান নেওয়ার সময় হালকা কিছু একটা অনুভব করেছি। পরিস্থিতি আদর্শ ছিল না, তাই চোট বাড়ানোর ঝুঁকি নেইনি। এখন অপেক্ষা করে দেখতে হবে।
অন্যদিকে অধিনায়ক নাথান এলিস আশাবাদী কণ্ঠে বলেন, বিশ্বকাপের কথাও মাথায় আছে। আমরা আশা করছি, সবকিছু ঠিকঠাক চললে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এবং বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়া যাবে।
টাইম ডেভিড এখন পর্যন্ত টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৬৮ ম্যাচে ৩৬.২৭ গড়ে এবং ১৬৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন। চলতি বছরে চার ও পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি নিজের প্রথম টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হন।
মন্তব্য করুন