
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ১৯তম আসরের মিনি নিলাম শেষ হয়েছে আবুধাবিতে। এই খেলোয়াড় কেনাবেচার আসরে সবচেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি মিলিয়ে মোট ৭৭ জন খেলোয়াড় কেনা হলেও সর্বোচ্চ ১৩ জন ক্রিকেটার দলে নিয়েছে শাহরুখ খানের মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
৬৪ কোটি ৩০ লাখ রুপি বাজেট নিয়ে নিলামে অংশ নেয় কলকাতা। দল গঠনে তারা ব্যয় করেছে ৬৩ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। ২৫ সদস্যের পূর্ণ স্কোয়াড দাঁড় করাতে কলকাতার মোট ব্যয় হয়েছে ১২৪ কোটি ৫৫ লাখ রুপি।
নিলামে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া দুই ক্রিকেটারই এখন কলকাতার। অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছে কেকেআর—যা আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে দামী বিদেশি ক্রিকেটারের রেকর্ড। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ কোটি রুপিতে কেনা হয়েছে শ্রীলঙ্কার গতিতারকা মাথিশা পাথিরানাকে।
রেকর্ড দামে কলকাতার হয়ে অজি অলরাউন্ডার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বার্তায় বলেছেন, ‘হাই, কেকেআর সমর্থকেরা। আগামী আইপিএলে কেকেআরের সদস্য হতে পেরে আমি খুবই উত্তেজিত। ইডেন গার্ডেন্সে বল করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। আশা করি, আপনাদের একটা দুর্দান্ত মৌসুম উপহার দিতে পারব। আমাকে শুধু পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। খুব তাড়াতাড়ি আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। এখন আমিও কেকেআর।’ পাথিরানাও উচ্ছ্বসিত বলেছেন, ‘হ্যালো, এ বারের আইপিএলে বেগুনি-সোনালি জার্সি পরে খেলব। খুব উত্তেজিত লাগছে। আবার ডোয়াইন ব্র্যাভোর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাব। সকলকে ধন্যবাদ। আমি কেকেআর।’ কলকাতায় পরের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তিনি তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যে নিলামে অংশ নেওয়া বাঁহাতি পেসার বলেন, ‘বেগুনি জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখছি। রোমাঞ্চিত এবং এই দলের হয়ে খেলার জন্য অধীর অপেক্ষায় আছি।’
নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্রকেও কিনেছে কলকাতা। চেন্নাই সুপার কিংসের ছেড়ে দেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই ক্রিকেটারকে নিতে খরচ হয়েছে ২ কোটি রুপি। কয়েক বছর পর কলকাতার জার্সিতে দেখা যাবে বাংলার ক্রিকেটার আকাশ দীপকে। ভারতীয় দলের ফাস্ট বোলারকে ন্যূনতম ১ কোটি টাকায় দলে নিয়েছে তারা। নিউজিল্যান্ডের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ফিন অ্যালেনকে নিতে খরচ হয়েছে ২ কোটি টাকা। আরেক কিউই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার টিম সেইফার্ট একই দলে গেছেন ন্যূনতম ১ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে।
ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে কলকাতা নিয়েছে তেজস্বী সিং দাহিয়াকে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে লড়াই করে দিল্লির ক্রিকেটারকে কিনতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি রুপি। দিল্লির ২৫ বছরের ক্রিকেটার কখনো আইপিএল খেলেননি। তবু ভিত্তিমূল্যের ১০গুণ রুপি খরচ করার নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ। আগ্রাসী ব্যাটার হিসাবে পরিচিত তেজস্বী। দিল্লির হয়ে চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫৬.৫ গড়ে করেছেন ১১৩ রান। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তার স্ট্রাইক রেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার স্ট্রাইক রেট ১৭০। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ১২ বলে ফিফটি করে নজর কাড়েন। এই প্রতিযোগিতায় তার স্ট্রাইক রেট ১৯০, করেছেন ৩৩৯ রান। যেখানে তিনি ২০টি চার ও ২৯টি ছক্কা মারেন। এছাড়া দিল্লির একটি প্রতিযোগিতায় ওভারের ছয় বলে ছয়টি ছক্কা মারারও নজির রয়েছে তেজস্বীর। দলের রিজার্ভ ফিনিশার হিসেবে তাকে নেওয়া হয়েছে।
দলে এসেছেন উত্তরপ্রদেশের ২৫ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার কার্তিক ত্যাগী। তাকে ন্যূনতম ৩০ লাখ রুপিতে পাওয়া গেছে। গুজরাট টাইটান্স, রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে ২০টি ম্যাচ খেলে ১৫টি উইকেট নেন তিনি।
ন্যূনতম ৩০ লাখ টাকায় কলকাতা কিনেছে প্রশান্ত সোলাঙ্কিকেও। মুম্বাইয়ের ২৫ বছরের লেগ স্পিনার ২০২২ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তাকেও দলে নেওয়া হয়েছে। ইডেনে তিনটি ম্যাচ খেলে কম রান খরচে ৩ উইকেট পেয়েছেন।
রাহুল ত্রিপাঠী চার বছর পর ফিরেছেন। ৩৪ বছরের ব্যাটারকে ৭৫ লাখ রুপিতে নিয়েছে কলকাতা। ২০২০ ও ২০২১ সালে দলটির হয়ে ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এছাড়া আরও চারটি দলের হয়ে আইপিএলে সব মিলিয়ে ১০০টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ৩০ লাখ রুপিতে দিল্লির অলরাউন্ডার সার্থক রঞ্জন ও হায়দরাবাদের অলরাউন্ডার দক্ষ কামরাকে কিনেছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ধরে রাখা ক্রিকেটার: আজিঙ্কা রাহানে, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, অনুকুল রায়, হার্ষিত রানা, মানীশ পাণ্ডে, রমনদীপ সিং, রিংকু সিং, রভম্যান পাওয়েল, সুনীল নারিন, উমরান মালিক, বৈভব অরোরা ও বরুণ চক্রবর্তী।
নিলাম থেকে পাওয়া ক্রিকেটার: ক্যামেরন গ্রিন, মাথিশা পাথিরানা, মুস্তাফিজুর রহমান, রাচিন রবীন্দ্র, আকাশ দীপ, ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্ট, তেজস্বী সিং দাহিয়া, কার্তিক ত্যাগী, রাহুল ত্রিপাঠী, প্রশান্ত সোলাঙ্কি, সার্থক রঞ্জন ও দক্ষ কামরা।
মন্তব্য করুন