
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। টানা চার ম্যাচে জয়ের রথ ছুটিয়ে শুক্রবার চীনের চংকিনে বাহরাইনকে ২–১ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের কিশোররা। দলের দুই গোল আসে বায়েজিদ ও মানিকের পা থেকে।
চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এ গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে আগামী বছর সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে তারা।
বাংলাদেশ প্রথম তিন ম্যাচ পূর্ব তিমুর, শ্রীলংকা ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে বেশ সহজেই জিতেছিল। তিন ম্যাচে ১৮ গোল করেছিল। কাল অবশ্য বাহরাইনের বিপক্ষে জয় পেতে বেশ কষ্টই হয়েছে ফয়সালদের। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ একাধিক ফ্রি-কিক ও কর্নার পেলেও কোনোটিতেই গোল করতে পারেনি। ২০ ও ২৮ মিনিটে রিফাত কাজী দুটি গোলের সুযোগ মিস করেন। ৩৪ মিনিটে বাংলাদেশের গোলকিপার একটি ভালো সেভ করেন। পরে ডিফেন্ডার কামাল গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে দলকে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা করেন।
ম্যাচের তিনটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৭ মিনিটে মানিক দারুণ একটি ক্রস দেন, রিফাত শট নিলেও বাহরাইনের গোলরক্ষক তা রুখে দেন। ৫৯ মিনিটে সাব্বিরের লম্বা থ্রো-ইন বাহরাইন ডিফেন্ডাররা ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বায়জিদ বল পেয়ে শট নিয়ে গোল করেন (১-০)। ৭২ মিনিটে ফয়সাল অসাধারণ একটি পাস দেন মানিককে। মানিক বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত একটি লম্বা শটে দর্শনীয় গোল করেন (২-০)। ৮৫ মিনিটে হোসেন জুবায়ের বাহরাইনের হয়ে একটি গোল করেন (১-২)। ম্যাচের বাকি সময় বাংলাদেশ সতর্কতামূলক ফুটবল খেলে। এতে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ অ-১৭ দলের হেড কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি চীন থেকে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আজ আমাদের কঠিন ম্যাচ ছিল। বাহরাইন অনেক শক্তিশালী দল, তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ভালো। তাদের বিপক্ষে আমাদের ছেলেরা জয়লাভ করে ইতিহাস তৈরি করল। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ও ভালো ফুটবল খেলেছে। প্রথমার্ধে গোল না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়। অনেক সুযোগ তৈরি করে, দুই গোলে এগিয়ে যায়। পরে এক গোল হজম করলেও সাহস এবং ধৈর্যর সঙ্গে খেলা শেষ করেছে। এ জন্য ছেলেদের ধন্যবাদ জানাই।’
৩০ নভেম্বর মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও স্বাগতিক চীন। এই ম্যাচকে ধরা হচ্ছে গ্রুপের অঘোষিত ফাইনাল হিসেবে। চীনকে হারাতে পারলে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ছেলেরা এশিয়ার শীর্ষ স্তরে ওঠার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন