
শ্যামনগর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, মৌসুমি সংগ্রাহক এবং মাদরাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। আশানুরূপ ক্রেতা না থাকায় অনেক চামড়া অবিক্রিত থেকে শেষ পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে।
ঈদের দিন সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ শুরু করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা। তবে দিনভর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাজারে কোনো কার্যকর চাহিদা না থাকায় গরু ও ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়নি।
গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আনা চামড়াগুলো আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকেই পরিবহন ও সংরক্ষণ খরচ বেশি হওয়ায় চামড়া কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ। আড়তদাররা কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন খরচ এবং লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
ফলে বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দেয় এবং অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। শেষ পর্যন্ত দুর্গন্ধ ও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেক চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষের জন্য কোরবানির চামড়া প্রতিবছর একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে। এই অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের খরচের একটি বড় অংশ মেটানো হয়।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদরাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম জানান, সারাদিন ও সারারাত অপেক্ষা করেও কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। পরে দুর্গন্ধ ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান গাবুরা চাঁদনীমূখা মাদরাসার সভাপতি আবু, যিনি বলেন—এবার চামড়া বিক্রি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সরকার কাঁচা চামড়ার নির্ধারিত দাম ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ক্রেতা না থাকায় ঘোষিত দামেও চামড়া বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।
ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যাপ্ত আড়ত ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে শ্যামনগরের চামড়া বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। সময়মতো সংরক্ষণ না করতে পারায় অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, কোরবানির আগে এতিমখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল, তারা চামড়া সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু চামড়া এভাবে নষ্ট করা উচিত হয়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন