
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লহ্মীদাড়ী এলাকায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৭ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত নারীর নাম তাছলিমা খাতুন (৩৮)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার উত্তর বহেরা গ্রামের নূরুজ্জামানের মেয়ে। তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
তাছলিমা খাতুনের ১২ বছর বয়সী একটি কন্যা এবং ৯ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী হলেন সাদ্দাম হোসেন (৪২)। তিনি ভোমরা ইউনিয়নের লহ্মীদাড়ী গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
নিহতের মেয়ে সাদিয়া খাতুন জানায়, তার বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঝগড়ার সময় বাবা ছুরি দিয়ে মাকে হত্যার হুমকি দিতেন।
ঘটনার রাতে বাবা পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১১টার দিকে তিনি এসে মাকে ডেকে অন্য ঘরে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর গরুর মতো গ্যাঙানির শব্দ শুনে সন্দেহ হয়। পরে ঘরের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে দেখা যায় দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। তখনই সে বুঝতে পারে তার মাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের বাবা নূরুজ্জামান বলেন, জামাতা সাদ্দাম যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই আমার মেয়েকে মারপিট করত। টাকা দিলে কিছুদিন ভালো থাকত। গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় আমাকে ফোন করে জানানো হয়, আমার মেয়েকে সাদ্দাম গলা কেটে হত্যা করেছে। আমি ওর ফাঁসি চাই, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর কেউ ঘটাতে না পারে।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আসামি পলাতক রয়েছে। নিহতের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন