
লেবাননে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলামের জীবন শেষ হয়ে গেছে এক ভয়াবহ বোমা হামলায়। মাত্র দুই মাস আগে বিদেশে যাওয়া এই তরুণের মৃত্যুতে তার গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোক।
সাতক্ষীরার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের দিনমজুর আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লেবাননে পাড়ি জমান। পরিবারকে স্বচ্ছল করার স্বপ্ন ছিল তার।
কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই বোমা হামলায় প্রাণ হারান তিনি।
সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় শফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী। তার বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই মেয়ের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। প্রতিবেশীরাও ছুটে আসেন পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে।
নিহতের বাবা আফসার আলী বলেন, ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখন ঋণ শোধ তো দূরের কথা, ছেলের মরদেহ কীভাবে দেশে আনব, সেটাও জানি না।
তিনি সরকারের কাছে দ্রুত শফিকুল ইসলামের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। পরিবারে রয়েছেন অসুস্থ মা আজেয়া খাতুন, স্ত্রী রুমা খাতুন ও দুই মেয়ে। বড় মেয়ে তামান্না আকতার মৌ স্থানীয় ভালুকা চাঁদপুর আদর্শ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে তন্বী আকতার বৃষ্টি বুধহাটা কাউছানিয়া মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।
বাবার মৃত্যুতে দুই মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবার।
নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুই মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
মন্তব্য করুন