
সাতক্ষীরায় পৃথক দুটি স্থানে এক মেধাবী তরুণ চিকিৎসক ও এক নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোররাতে শহরের কাটিয়া ও রসুলপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) সুশান্ত ঘোষ জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও বিস্তারিত তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় সদর মন্দির সংলগ্ন নিজ বাসভবন থেকে ডা. সজীব দত্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ডা. সজীব দত্ত (২৭) ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি লন্ডনে উচ্চতর এফসিপিএস পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই কিছুদিন আগে বাড়িতে ফেরেন মর্মে জানান সজীবের আত্মীয় ও প্রতিবেশী উৎপল সাহা।
সজীবের বাবা তপন কুমার দত্ত জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সজীব তার ঘরে ঘুমাতে যান। বুধবার সকালে তার মা কাঞ্চন দত্ত পূজা করার জন্য ওই ঘরের দরজায় ধাক্কা দিলে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারেন এবং ছেলেকে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
অন্যদিকে, একই সময়ে শহরের কদমতলা বাজার সংলগ্ন রসুলপুর গ্রামে আব্দুর রাজ্জাক (৪৮) নামে এক নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের শামসুদ্দীন সরদারের ছেলে। রাজ্জাক রসুলপুর গ্রামের ‘ফাল্গুনী বস্ত্রালয়’ এর বাড়িতে নৈশপ্রহরী ও কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানেই তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।
স্বজনরা জানান, ভোররাতে রাজ্জাক সেহেরীর খাবারও খান। পরে স্থানীয় এক প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম জানান, পারিবারিক বা সাংসারিক কোনো জটিলতার কারণে এই অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন