
নড়াইল সদর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ফুটবল টুর্নামেন্টের নামে প্রকাশ্যে র্যাফেল ড্র বা লটারি আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। শেখহাটি তপনভাগ যুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় যুব সমাজের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট ঘিরে এমন কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। এ আয়োজনের নেপথ্যে জিকো মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে ফুটবল খেলা চললেও প্রবেশমুখে দর্শকদের ১০ টাকা মূল্যের লটারির টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে, যা অনেক দর্শকের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একইভাবে খেলার আড়ালে একাধিকবার লটারির আয়োজন করা হয়েছে। তবে টিকিট বিক্রির অর্থের ব্যবহার ও পুরস্কারের পরিমাণ নিয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে আয়োজকদের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সমাজকর্মী কাজী হাফিজুর রহমান বলেন, “অনিশ্চিত লাভের আশায় অর্থ ব্যয় করাই মূলত জুয়া। পুরস্কারের প্রলোভনে সাধারণ মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে আয়োজক জিকো মাহমুদ দাবি করেন, পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল ছালাম এ দাবি নাকচ করে জানান, লটারি বা র্যাফেল ড্র আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমতি বাধ্যতামূলক, যা এখানে নেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, সন্ধ্যায় লটারির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও তিনি লটারির আইনি বৈধতা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকতে পারে, তবে অনুমতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়নি।
মন্তব্য করুন