
নড়াইল সদর উপজেলায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চার জন নিহতের ঘটনার নেপথ্যে পূর্ব শত্রুতার জেরে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক দুই চেয়ারম্যান খায়েরুজ্জামান খায়ের মোল্লা এবং উজ্জ্বল শেখের পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে এই বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। পুলিশ সকালে চারজনের মৃত্যুর কথা জানায়। তবে দুপুরের পর ফেরদাউস হোসেনের ছেলে আহত মুন্না শেখ হাসপাতালে মারা গেছেন এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও পরিবার বলছে, সোমবার ভোরে সেহরির পর পরই ৫০-৬০ জনের একটি দল তারাপুর গ্রাম থেকে বড়কুলা গ্রামে এসে খলিল শেখের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে সেটা পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নেয়। তখন উজ্জ্বল শেখের সমর্থকরা খায়ের মোল্লার সমর্থকদের ছয়টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। হামলায় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে চারজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলে এবং একজন হাসপাতালে মারা যান।
নিহতরা হলেন, বড়কুলা গ্রামের খলিল শেখ (৭০), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১), তাদের পক্ষের ফেরদাউস হোসেন (৪০) তারা উজ্জ্বল শেখের সমর্থক। এ ছাড়া প্রতিপক্ষের হামলায় খায়ের মোল্লার সমর্থক ওসিকুর ফকির (৩৬) নিহত হয়েছেন। পুলিশ সকালে চারজনের মৃত্যুর কথা জানায়। দুপুরের পর ফেরদাউস হোসেনের ছেলে আহত মুন্না শেখ হাসপাতালে মারা গেছেন এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
সিঙ্গাশোলপোল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুশফিকুর রহমান বিকালে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। সেখানে তিনটা লাশ দেখেছি। পরে হাসপাতালে মারা গেছেন আরও একজন। এই চারজন মারা গেছেন। আর ফেরদাউসের ছেলে মুন্না মারা গেছেন- এমনটা লোকমুখে ছড়িয়েছে। আমি খোঁজ নিয়েছিলাম। জানতে পেরেছি সে মারা যায়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।”
একই কথা বলেছেন নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া। তিনি বলেন, “পাঁচজন মারা গেছেন এমন গুজব ছড়িয়েছিল। কিন্তু সেটি ঠিক না। চারজনই মারা গেছেন।”
চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে বড়কুলা গ্রাম ও হাসপাতাল চত্বরের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, তারা তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও ৯-১০ বছর আগে গ্রাম্য মারামারি এড়াতে বড়কুলা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। তারপরও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছিল।
তিনি বলেন, “ভোর রাতে সেহেরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন তারাপুর গ্রাম থেকে আসা খায়ের মোল্লা ও তার ভাইসহ কমপক্ষে ৫০-৫৫ জন লোক আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা আমার স্বামী খলিল শেখ এবং ছেলে তাহাজ্জতকে কথা আছে বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়।
“এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাদের দুজনকে রক্ষা করতে এসে একইভাবে খুন হন আমাদের পক্ষের ফেরদাউস।”
অপরদিকে খায়ের মোল্লার সমর্থক নিহত ওসিকুরের স্ত্রী কেয়া বেগম বলেন, প্রতিপক্ষের লোকেরা তার স্বামীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান।
বড়কুলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ওসিকুর তাদের গ্রামেরই বাসিন্দা। কিন্তু তিনি খায়েরুজ্জামান খায়ের মোল্লার সমর্থক। তারাপুর গ্রাম থেকে যারা হামলা করতে এসেছিলেন, ওসিকুর তাদের পক্ষ থেকে সেখানে গিয়েছিলেন।
এদিকে সকালে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বড়কুলা গ্রামে যান। এ সময় তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার বলেন, সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক দুই চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লা ও উজ্জল শেখের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এ ব্যাপারে কাজ করছে। এ ঘটনায় বিকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানান নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া।
মন্তব্য করুন