
১৭ বছরের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার (ফ্লাইট নম্বর ২০২)-এর পাইলট ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ বিমানের সিনিয়র ক্যাপ্টেন ও মেহেরপুরের কৃতি সন্তান ইমামুল ইসলাম ইমন।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও নিরাপদ উড্ডয়নের জন্য সুপরিচিত ক্যাপ্টেন ইমনের সঙ্গে সহকারী পাইলট হিসেবে ডেকে ছিলেন আরও দুই অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন—রাশেদিন এবং আসিফ ইকবাল।
ক্যাপ্টেন ইমামুল ইসলাম ইমন মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জেলার প্রখ্যাত ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামের সন্তান। তার বাবা মেহেরপুরের একজন পরিচিত পাট ও পরিবহন ব্যবসায়ী হিসেবে সুপরিচিত। উল্লেখযোগ্যভাবে, মেহেরপুর-ঢাকা রুটে চলাচলকারী প্রথম পরিবহন ‘ফাইবার্স পরিবহন’-এর উদ্যোক্তাও ছিলেন সিরাজুল ইসলাম।
তারেক রহমানকে বহনকারী এই গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব ক্যাপ্টেন ইমনের হাতে থাকায় বিষয়টি সামনে আসতেই মেহেরপুরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। জেলার মানুষ সামাজিক প্ল্যাটফর্মে পোস্ট দিয়ে ক্যাপ্টেন ইমনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। একজন দক্ষ বৈমানিক হিসেবে তার সাফল্যে গর্বিত মেহেরপুরবাসী।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। তারেক রহমানের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং তাদের প্রিয় পোষা বিড়াল ‘জেবু’।
পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে ফ্লাইটটি।
বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র পাইলটদের সমন্বয়ে ফ্লাইট ক্রু নির্বাচন করা হয়েছিল।
নিরাপদ অবতরণের পর তারেক রহমানের মালামাল নিজ হাতে বুঝিয়ে দেন ক্যাপ্টেন ইমামুল ইসলাম ইমন। এ সময় তারেক রহমান ক্যাপ্টেন ইমনকে ডেকে নিয়ে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান।
মন্তব্য করুন