
মাগুরার সদর উপজেলার শত্রুজীবপুর বাজারে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে একটি বিসিআইসি সারের ডিলার প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সোমবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাগুরা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।
অভিযানে শত্রুজীবপুর বাজারের সঞ্জিত কুমার সাহার বিসিআইসি সারের দোকানে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের ডিএপি সার প্রতি বস্তা ২ হাজার ২০০ টাকায় এবং ১ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারিত মূল্যের টিএসপি সার প্রতি বস্তা ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ সময় অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির কোনো ভাউচার বা রেজিস্টারে তথ্য সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া দুইজন কৃষকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় অভিযান পরিচালনাকারী দল।
এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ও ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃষকদের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়।
এদিকে জেলার বিভিন্ন বাজারে লাইসেন্সবিহীন সার, বীজ ও কীটনাশক বিক্রি এবং নকল মোড়কে কৃষি উপকরণ বাজারজাত করার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কুলিয়া, জাগলা, লক্ষ্মীপুর, কাটাখালী, নোহাটা, ইসাখাদা, বালিয়া, বেরুল, পলিতা, রাজাপুর ও আমুড়িয়াসহ বিভিন্ন বাজারে এ ধরনের কার্যক্রম চলছে।
এছাড়া, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় জেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন