মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নামেই মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বর বাস্তবে গো-চারণ ভূমি!

এস আর এ হান্নান
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বর এখন গরুর দখলে।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে অবস্থিত ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বর’। এক সময় যা ছিল এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক টুকরো স্বস্তি আর সৌন্দর্যের প্রতীক, আজ তা অযত্ন ও অবহেলার ছাপে মলিন। যে চত্বরটি এক সময় নন্দন কাননের রূপ নিয়েছিল, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটি এখন পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে।

২০২০ সালের ১৫ আগস্ট মাগুরার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এটির শুভ উদ্বোধন করেন। তৎকালীন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমানের উদ্যোগে সরকারের প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চত্বরটি নির্মাণ করা হয়।

দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা, লাইটিং এবং বাগান, স্টীলের বেঞ্চ, বাউন্ডারি ও গেটসহ পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে ১৬ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ ব্যয় করা হয়েছিল। এটি ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন ইউএনও মো. মিজানূর রহমানের হাত ধরে উদ্বোধন হয়েছিল।

স্মৃতি চত্বরটি এক সময় এমন ছিল না। এক সময় এখানে ছিল পুরনো জরাজীর্ণ ভবন আর ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। সেই আবর্জনা সরিয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমানের উদ্যোগে ও সরকারি অর্থায়নে এখানে নির্মাণ করা হয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বর। নজরকাড়া এই স্থাপনাটিতে বসানো হয়েছিল আধুনিক পানির ফোয়ারা, যা সন্ধ্যার আলোয় ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিত। পুরো এলাকাটি সাজানো হয়েছিল হরেক রকমের ফুলের গাছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে যখন নানা রঙের ফুল ফুটত, তখন এটি যেন এক অনন্য ও নজরকাড়া রূপ ধারণ করত।

এই চত্বরটি ছিল মহম্মদপুরবাসীর বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসতেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে আসা সেবা প্রার্থীরাও ক্লান্তি ভুলে কিছুক্ষণ এখানে সময় কাটাতেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিকেলে একটু প্রশান্তির খোঁজে অনেকে এখানে জড়ো হতেন। ঝকঝকে-তকতকে পরিবেশ আর ফুলের সুবাসে মুগ্ধ হতেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায় ছিল।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বর এখন পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে।

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট চত্বরের পশ্চিম পাশে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের কিছু অংশে ভাঙচুর করা হয়। পরে সেটি কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। ম্যুরালটির ভবিষ্যৎ কী? তা নির্ভর করছে সরকার ও প্রশাসেনর ঊর্ধ্বতন সিদ্ধান্তের উপর। তবে স্থানীয়ভাবে শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে সেখানে বাংলাদেশের মানচিত্রভিত্তিক নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই চত্বরের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। এখন এখানে আর সেই দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা চলে না। দীর্ঘদিন সেটি নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সচল নেই রঙিন আলোগুলোও। মালি বা যথাযথ তদারকির অভাবে চত্বরের বাগানটি এখন আগাছায় পূর্ণ। ফুলের বদলে সেখানে জন্ম নিয়েছে ঘাস, সন ও আগাছা। এখন প্রায়ই ঘাস খেতে চত্বরের ভেতর গরুর দলকে বিচরণ করতে দেখা যায়। দল বেধে ঘোরাঘুরি তরে কুকুর। অযত্নে পানির ফোয়ারার অনেক জায়গায় শ্যাওলা জমতে শুরু করেছে। এক সময়ের সেই সাজানো-গোছানো আভিজাত্যেমোড়া রঙিন চত্বর এখন শুধুই স্মৃতি বহন করছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে বলেন, আগে এখানে আসলে মনটা ভালো হয়ে যেত। এখন দেখি চত্বরের ভেতর গরু চরে। পুরো চত্বর মরভূমির মতো খা খা করে। ফোয়ারাটা বন্ধ থাকায় পুরো জায়গাটা মরা মনে হয়। আমরা চাই আগের সেই সৌন্দর্য আবার ফিরে আসুক।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বর এখন পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে।

মহম্মদপুরের সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থার মাধ্যমে আবারো দৃষ্টিনন্দন করে জায়গাটি গড়ে তোলা। প্রশাসনের উদ্যোগ যেন শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে রূপ নেয়, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা বলেন, ‘চত্ত্বরটি এক সময় নানান ফুলের সমাহারে খুবই দৃষ্টিনন্দন ছিল। সেটি দীর্ঘদিন অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে চত্ত্বরটিকে নতুন করে সাঁজানো উচিৎ।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ: শাহনুর জামান কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। চত্বরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতমোমধ্যে সৌন্দর্য বর্ধন এবং পরিস্কার-পরিচ্ছনতা বজায় রাখার জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। আশা করছি, আগামী শীত মৌসুমেই নতুন করে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ সম্পন্ন হবে এবং এটি আবার আগের মতো দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে।”

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

X